ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত খুলনার ফুল মার্কেট

20
মোঃ আল আমিন খান, (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার) 
রবিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবসের প্রধান উপহার ফুল। আর সে ফুলের মধ্যে সবার পছন্দ গোলাপ। তাও আবার লাল রঙের। এ দিনটিতে তরুণীরা সাজবে ক্রাউন পরে। ক্রাউন থাকবে মাথায়। ক্রাউনে ৫ থেকে ৬টি ফুল থাকবে। এ ফুলের মধ্যে প্রধানত থাকবে গোলাপ। চাহিদা মেটাতে খুলনা ফুল মার্কেটে ভালোবাসা দিবসে মজুত ২০ হাজার পিস লাল গোলাপ। প্রতি পিসের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ২০১৫ সালের ভালোবাসা দিবসে মহানগরীর ফারাজীপাড়া রোডস্থ ফুল মার্কেটে চাহিদা ছিল হলুদ গোলাপ। ২০১৮ সালে চাহিদা হয় সাদা গোলাপ। তিন বছর পর এবারের চাহিদা লাল গোলাপের। খুলনা মহানগরীর ফুল মার্কেটের ব্যবসায়ীরা যশোরের গদখালীতে ইতোমধ্যেই লাল রঙের গোলাপের চাহিদার কথা জানিয়েছেন। সেখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস লাল গোলাপের দাম নেবে ১২ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শার্শা উপজেলায় ফুলসরা থেকে একশ’ পিস গোলাপ খুলনার ফুলমার্কেট পর্যন্ত আসতে শুকিয়ে যায়। অনেক সময় পঁচেও যায়। ফারাজীপাড়া ফুল মার্কেটের ফুলেরশ্বরী, নাইট, বিয়ের ফুল, বিসমিল্লাহ ফুল ঘর বেলি গার্ডেন, পুরবী পুষ্পালয়, ফুলের মেলা, পুষ্পমালা, গোলাপ কানন, স্বপ্নের ঠিকানা, রজনীগন্ধা, ভ্যালেনটাইন ফ্লাওয়ার, নিউ রোজ গার্ডেন ও দোলনচাপা নামক দোকান সেজেছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। দৌলতপুর, খালিশপুর, বয়রা ও নিউ মার্কেটের ফুলের দোকানেও অনুরূপ আয়োজন। বিয়ের ফুল’ নামক দোকানের মালিক শেখ মো. নাসিম কচি জানান, গোলাপ প্রতি পিস ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং ক্রাউন ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তার অভিযোগ গদখালী থেকে একশ’ পিস গোলাপ এলে তার অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই দাম বাড়াতে হয়। গদখালীর সিন্ডিকেট বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ফুলের দাম বাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, করোনার কারণে প্রায় ৪ মাস মার্কেট বন্ধ ছিল। ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। সে ধকল কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি কৃত্রিম ফুলের আমদানির জন্য ফুল ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত ফুল ব্যবসায়ীদের জন্য তিনি সরকারি প্রণোদনা দাবি করেন। ভ্যানেল্টাইন ফ্লাওয়ার’র মালিক মো. নাজমুল হুদার দাবি, সরকার ফুল ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পোশাতে অনুদানের পদক্ষেপ নিতে পারে। আর তা না হলে এ ব্যবসার ঐতিহ্য নষ্ট অথবা বিলুপ্ত হতে পারে। করোনায় লকডাউন শেষে ব্যবসা চালু হলেও লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যায়নি। অন্যান্য বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, ১ ফাল্গুন, বাংলা নববর্ষ, বিশ্ব ভালবাসা দিবস, ঈদ-পুজায় কাঙ্ক্ষিত বেচা-কেনা হয়। সে সময় ঈদ-পুজা ছাড়া অন্যান্য দিবসে প্রতিটি দোকানে গড়ে এক লাখ টাকা বিকিকিনি হয়। গেলো ১৬ ডিসেম্বর প্রতিটি দোকানে ২৫-৩০ হাজার টাকা মুল্যের ফুল বিক্রি হয়। পাঁচ বছর আগে নগরীর ফুল মার্কেটে এসব দিবসে ১৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হতো। এখন সেই তুলনায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ফুল বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা তার। ফুলের ব্যবসা বাঁচাতে তিনি প্রণোদনার দাবি তোলেন।