ফুলতলা সৈয়দপুর ট্রাস্টের জমি উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ মাঠে নেমেছেন, ধরা ছোঁয়ার বাইরে নায়েব সাকিল

193

ডেক্স রিপোর্ট।।

দীর্ঘ ১ যুগ পর অবশেষে ফুলতলার নাউদারী  মৌজার  সৈয়দপুর ট্রাস্টের জমি উদ্ধার হতে যাচ্ছে। তবে ধরা  ছোঁয়ার বাইরে  থেকে যাচ্ছে ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব গাজী সাকিল আহমেদ। শুধু নায়েব সাকিল একা নয়,তাঁর সাথে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট।

জানাযায়, খুলনা জেলার কয়েকটি উপজেলাতে সৈয়দপুর ট্রাস্টের ভূসম্পত্তি রয়েছে। তার মধ্যে  ফুলতলার তাজপুর, নাউদারি, জামিরা মৌজাতে সৈয়দপুর ট্রাস্টের মোটা দাগে বেশকিছু জমি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু জমি লিজ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তবে নাউদারি মৌজার একটি দাগের বেশ কিছু জমি বেহাত হয়ে রয়েছে দীর্ঘ দিন।

সৈয়দপুর ট্রাস্টের নাউদারী মৌজা, জেল নং ১৫ ও এস এ দাগ নং ৫৬১ তে মোট ৭০ শতক জমি  কয়েকযুগ ধরে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন একটি মহল। বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরে গেলে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্যাদি বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে আমাদের হাতে আসে নাউদারির  আর এস  ৬১০ নং দাগের ৮টি খতিয়ান যার এস এ দাগ নং ৫৬১। এই জমির ৭০ শতাংশ হাল জরিপে রেকর্ড করে নিয়েছেন নাউদারির শহীদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, নাসির উদ্দিন মুন্সী, মহি উদ্দীন, সিরাজ উদ্দিন,  গোলাম রব্বানী, কুলসুম বিবি,  আব্দুল মান্নান খান সহ আরো কিছু কথিত মালিক। তবে প্রশ্ন দেখা দেয় কিভাবে ট্রাস্টি সম্পত্তির মালিক বনে গেলেন তারা।

তবে সাম্প্রতিক  সৈয়দপুর ট্রাস্টের ওই ৭০ শতাংশ জমির অন্যতম কথিত মালিক  শহিদুল ইসলাম খান  সেনা সদস্যে তমজিদ হোসেনের কাছে ০.০৭৮৫৭৫ একর জমি বিক্রয় করে। একে তো অবৈধ মালিক শহিদুল, তার উপর সৈয়দপুর ট্রাস্টের সম্পত্তি বিক্রয় করেছেন  । সেনা সদস্য তমজিদের নামপত্তনের কাগজে দেখা যায় ফুলতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহাকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গাজী সাকিল আহমেদ খতিয়ানের প্রস্তাবনা করেছে।  সবকিছু জেনে শুনে ও ঠান্ডা মাথায় নায়েব সাকিল বিশেষ সুবিধা নিয়ে তমজিদকে নাম পত্তন করিয়ে দিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তমজদিরে বেলায় নয়, বেশকিছু সরকারি খাস জমির দাখিলা কেটে দিয়েছেন  নায়েব সাকিল এমন তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা।

এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় শ্রেনীর একজন কর্মচারি হয়ে সাকিল খুলনার বানরগাতি সিদ্দিকিয়া মহল্লায়  বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তুলেছেন।  যার জমিসহ বাড়ির বাজার মূল্য প্রায়৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। ১৭ গ্রেডের বেতনে থাকলেও নিজের নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদ্যস্যেদের নামে জমি কিনেছেন। খুলনার শিরোমনি বিলডাকাতিয়া সাকিলের ও তার পরিবারে একাধিক দাগে জমি রয়েছে।

একটানা  ১১বছর কোন বদলি ছাড়ায়  সাকিল ফুলতলায় বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন । নামমাত্র দামোদর থেকে ফুলতলা ইউনিয়নে বদলি হলেও  ঘুরে ফিরে ফুলতলায় নায়েবের  চেয়ারেই আকড়ে ধরে আছেন তিনি।

একের পর এক স্থানীয় পত্রপত্রিকায় গাজী সাকিল আহমেদ এর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমানসহ সংবাদ পরিবেশন করা হলেও কর্তৃপক্ষ সাকিলের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেননি। বরং বহুল তবিয়তে হাজারো অনিয়ম করেও গাজী সাকিল চাকরি করে আসছে।

দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমান খুলনা জেলা প্রশাসক জিরো টলারেন্স ভূমিকায় রয়েছেন। তার দৃষ্টি আকর্ষন করে স্থানীয়রা বলেন, অচীরেই সাকিলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। না হলে সাধারন মানুষ আরো ভোগান্তীর শিকার হবে নায়েব সাকিলের কাছে।

ফুলতলার সৈয়দপুর ট্রাস্টের ভূ সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয় খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাসস্ব) জিয়াউর রহমান জানান, জমি উদ্ধারের বিষয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। আর যে মিউটেশন হয়েছে তার বাতিলের বিষয় ফুলতলার এসিল্যান্ড পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আগামী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আসছে………………