কলাপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকার টিকিট পেতে মাঠে ৫ প্রার্থী

20
রনি মজুমদার , স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থীতার। ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার পর প্রথমবার পৌরসভায় জাতীয় প্রতীকে মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে  প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এবারের পৌরসভা নির্বাচনেও থাকছে একই নিয়ম। তারই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামিলীগ এর মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন ৫ জন। ইতিমধ্যেই তারা মাঠে ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থীতার এবং দোয়া চেয়ে বেড়াচ্ছেন পৌরসভার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।
এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এবার মেয়র পদে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় রয়েছেন কলাপাড়া শহর পৌর আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম। ছাত্র রাজনীতি থেকেই ছিলেন বঙ্গবন্ধু আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। তিনি কলাপাড়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এবং কলাপাড়া থানা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালীন মহামারীতেও তিনি ব্যক্তিগত ভাবে প্রায় পনের লক্ষ টাকার ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেছেন। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে তার দায়িত্বে থাকা চম্পাপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই ছিল নৌকার বিপুল ব্যবধানে জয়। তাই সবকিছু ছাপিয়ে নৌকার টিকিট পেতে অনেকটাই এগিয়ে আছেন এই তৃনমূল নেতা।
এছাড়াও আওয়ামিলীগ এর মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে আছেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ এর ১৩ নং ওয়ার্ড এর সদস্য ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফিরোজ শিকদার। দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত রাজনীতি মাঠে থাকা এই প্রার্থীর রয়েছে এক বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ১৯৯২ সালে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে সর্বশেষ ২০১৬ সালে হয়েছেন জেলা পরিষদ সদস্য।  গত নির্বাচনেও মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের সিদ্ধান্ত বাইরে না গিয়ে নৌকার জয় সুনিশ্চিত করতে কাজ করেছেন। তাই এবার নৌকার মাঝি হতে প্রত্যাশা তার একটু বেশি।  তিনি আশা করছেন দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করে এবার মনোনয়ন দিবেন। করোনাকালীন সময় তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় বার লক্ষ টাকা সমমূল্যের ত্রান বিতরন করেছেন।
তাছাড়াও মাঠে রয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামিলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। তবে তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করবেন না। ১৯৮৮ সাল থেকে ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি করে আসা এই প্রার্থীও রয়েছেন আলোচনায়। তবে বর্তমান মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার এর অবস্থান কিছুটা নমনীয়। ত্যাগী নেতাদের অবমুল্যায়ন, বিভিন্ন ত্রান বিতরনে স্বজন প্রীতির কারনে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নে নির্বাচিত  এই মেয়র। এছাড়াও কলাপাড়া কৃষকলীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামান হারুন এর কথাও শোনা যাচ্ছে আওয়ামিলীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে।