ডুমুরিয়ার বাকার কলেজের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ঃ শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন

46

আবু হামজা বাঁধন , ডেক্স রিপোর্ট
শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। সেই শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়লে এবং অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককের কাছে নতুন প্রজন্ম কি শিখবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। এমন ঘটনা ঘটেছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ডাঃ এস কে বাকার কলেজে। ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজসে গাজী ইউনুস আলী নামে এক শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কথায় বলে ধর্মের কল বাতাস নড়ে। দীর্ঘ ৭ বছর পর সেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যে অবৈধ ছিল বা নিয়মের পরিপন্থী ছিল তা বেরিয়ে এসেছে।
জানা যায়, গত ১১ মে ২০১৩ তারিখে সাচিবিক বিদ্যার প্রভাষক হিসেবে গাজী ইউনুস আলীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। সেই সময়কার প্রিন্সিপাল মো. ইমাম মুহিত ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহিন হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি করা হয়। শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতা মূলক বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে পত্রিকায় যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ কলেজ থেকে জানাযায় সেই তারিখে অর্থাৎ গত ০৪/০৩/২০১৩ তারিখে কোন নিয়োগপত্র প্রকাশ হয়নি বলে প্রমাণ পান এ প্রতিবেদক। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো কলেজের সংরক্ষিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থাকলেও দৈনিক অর্নিবান অফিস থেকে আনা ওই একই তারিখের পত্রিকায় কোন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই। এটি কি ভাবে সম্ভব ? এ প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে দেখা যায় কলেজে সংরক্ষিত পত্রিকা এবং পত্রিকা অফিস থেকে আনা ওই একই তারিখের পত্রিকা হুবুহু মিল রয়েছে। শুধুমাত্র ভিতরের পেজে বিজ্ঞাপনের অংশে গড়মিল। দৈনিক অর্নিবানের সম্পাদক অধ্যক্ষ আলী আহম্মেদকে এ বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে , শিক্ষক নিয়োগে প্রত্রিকার বিজ্ঞপ্তির বিষয়টিতে অনিয়ম রয়েছে।
বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) প্রিন্সিপাল শুভংকার মজুমদার জানান, একই তারিখের দুটি পত্রিকা দেখে মনে হচ্ছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে গড়মিল রয়েছে, তাই আমি বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমান প্রিন্সিপাল শুভংকার মজুমদারের নেতৃত্বে ও ম্যানেজিং কমিটির সমন্বয়ে এক মিটিং-এ প্রভাষক গাজী ইউনুস আলীকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। এছাড়া গাজী ইউনুস আলীর এমপিও প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিচালক খুলনার বরাবর চিঠি প্রেরণ করেন। এতসব ঘটনার পরেও খুলনার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর হারুন অর রশিদ ও উপ পরিচালক (কলেজ) এসকে মুস্তাফিজুর রহমান কোন এক অজানা কারণে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও বর্তমান সাময়িক বহিস্কারপ্রাপ্ত প্রভাষক গাজী ইউনুস আলীর এমপিও বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব করে যাচ্ছেন। একের পর যুক্তি দেখিয়ে যাচ্ছেন গাজী ইউনুস আলীর পক্ষে। তবে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয় উপ-পরিচালক (কলেজ) মুস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন,যে কোন একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলে হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গড়মিলের বিষয় এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তাফিজুর রহমান গাজী ইউনুস আলীর পক্ষে আর কোন সদুত্তর দিতে পারে নি।
খুলনার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর হারুন অর রশিদ জানান, এর আগেও দুই দফা গাজী ইউনুস আলীর এমপিও আবেদন নাকচ হয়। তবে তৃতীয়বার গাজী ইউনুস আলীর আবেদনের বিষয়টি প্রসেসিং-এ রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াতে অনিয়ম হলে তাঁর এমপিও আবেদন এবারও খারিজ হবে।
একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র জানায়, কোন বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ গাজী ইউনুস আলীর পক্ষে ছাফাই গেয়ে যাচ্ছেন।
মানবাধিকার কর্মী শেখ ইউনুস আলী জানান, “শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে গড়মিল মানেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবৈধ। তাই গাজী ইউনুস আলীর এমপিও কোনভাবেই কর্তৃপক্ষ একসেপ্ট করতে পারে না”।
বহিস্কারকৃত প্রভাষক গাজী ইউনুস আলী জানান, দীর্ঘ চাকরি জীবন পার করে এখন শেষ মুহুর্তে দেখতে পারলাম আমার যে নিয়োগ হয়েছে এবং সেই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছিল না। এতদিন পরে আমি এখন হয়রানি হচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৭ সালের পর কোন শিক্ষক নিয়োগ করতে গেলে কমপক্ষে দুটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। যার মধ্যে একটি আঞ্চলিক ও একটি জাতীয় পত্রিকা হতে হবে। তবে ২০১৩ সালের বাকার কলেজের শিক্ষক নিয়োগে আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি তৎকালীন নিয়োগ বোর্ড।
তাই অবলম্বে গাজী শেখ ইউনুস আলীর এমপিও বাতিল সহ তৎকালীন নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন স্থানীয়রা।