অভয়নগর উপজেলার এসিল্যান্ড কেএম রফিকুল ইসলাম একজন মানবিক কর্মকর্তা

43

আবু হামজা বাঁধন, ডেক্স রিপোর্ট।।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। এখনও ভূপেন হাজারিকার এ গান বেঁচে আছে কিছু ভাল মানুষের কর্মের মাঝে। যারা বিভিন্ন সংকটময় মুহুর্তে ছুটে যান মানুষের পাশে। তেমনি একজন কীর্তিময় ব্যক্তিত্ব যশোর অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম। তিনি তার কর্মস্থল অভয়নগরে একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। সরকারী দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কখনও বসে থাকেননি। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান এক হিন্দুধর্মালম্বী। ভয়ে কেউ লাশ সৎকারে এগিয়ে না আসলেও এসিল্যান্ড রফিকুল ইসলাম নিজে হাতে চিতা সাজিয়ে লাশ সৎকার করেন।
জানা যায়, করোনার ভয়াল থাবা যখন বাংলাদেশে আঘাত হানতে শুরু করে। সেই বিপর্যয়কালীন যশোর অভয়নগর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন কেএম রফিকুল ইসলাম। যোগদান করার পর থেকেই মাঠে নামেন মানুষকে সচেতন করার জন্য। পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত । সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম রফিকুল ইসলাম ১০২টি অভিযান চালিয়ে ৫৪৮ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ লাখ ১৯ হাজার ১৭০ টাকা জরিমানা করেন । এ যাবৎ সর্বমোট ৪৫০টি মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন। সরকারি নিয়মনীতি না মানা, অযথা বাজারে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে, আইন না মেনে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা করা, অবৈধ পণ্য মজুদ রাখা, চড়া দামে পণ্যসামগ্রী বিক্রি, বিয়েবাড়িতে অধিক লোকের সমাগম ঘটা, হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকায় এ সব জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।
সর্বাধিক মামলা ও জরিমানা করে ভূয়াসী প্রশংসা পান সর্বমহলে। এছাড়া করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় রফিকুল ইসলামকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন পত্র দেওয়া হয়।
মানবিক এ ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সারাদিন কর্মব্যাস্ততার পরেও থেমে থাকেননি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস কাজ করে গেছেন শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে করোনার বিষয় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যে। তখন ছিল পবিত্র মাহে রমজান মাস। ইফতারির কিছুক্ষন পর এসিল্যান্ড রফিকুল ইসলামের কাছে ফোন আসে , করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মহাকাল গ্রামের নিতাই চন্দ্র (৫৫) এর লাশ ভয়ে কেউ সৎকারে এগিয়ে আসেনি। এ খবর শুনে ছুটে যান এসিল্যান্ড রফিকুল। মহাকাল শশ্বান কমিটির সভাপতি  ও সংশ্লিষ্ট থানার  ওসি তাজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে এসিল্যান্ড রফিকুল ইসলাম লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করেন। এমনকি এই মানবিক ভূমি কর্মকর্তা নিজের হাতে চিতা সাজিয়ে লাশ দাহ করেন।
এখানেই শেষ নয়, এই মানবিক কর্মকর্তা কেএম রফিকুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের চিত্র । অভয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাত্র ৮ মাস হলো। সৎ ও ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছেন। কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি তরুণ এই কর্মকর্তা। ফলে অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়েও তাকে কাজ করে যেতে হয়েছে।
অভয়নগর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও নওয়াপাড়ার রাজ টেক্সটাইল লিমিটেড কোন ভূমি উন্নয়ন কর দেয়নি। ফলে ২০১১ সালের দিকে মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব রেঞ্জ সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৩২(২০১১-১২)।  কেএম রফিকুল ইসলাম অভয়নগর উপজেলার এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি রাজ টেক্সটাইল লিমিটেড কে নোটিশ করে ডেকে আনেন। এসিল্যান্ড রফিকুল নিজেই কাউন্সেলিং করে রাজ টেক্সটাইলকে তাদের বিগত দিনের ভূমি উন্নয়ন কর ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫৮ টাকা পরিশোধ করান। এতবড় একটি টাকার পরিমান সরকারি কোষাগাড়ে জমা হওয়াতে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া তাঁর চাকরি জীবনে এ বিষয়টি মাইলফলক হিসেবে থাকবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। এছাড়াও এসিল্যান্ড কেএম রফিকুল ইসলাম সরকারি খাসজমি উদ্ধার, ভূমি দখলদারদের উচ্ছেদ সহ বিভিন্ন কাজ সফলতার সাথে করে আসছেন। ইতিমধ্যে যশোর জেলা প্রশাসনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন এই ভূমি কর্মকর্তা ।
উল্লেখ্য,কেএম রফিকুল ইসলাম ৩৫তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারী চাকরিতে যোগদান করেন। এর পর  তিনি এনডিসি হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর জন্মস্থান শিল্পনগরী খুলনাতে।