বাগেরহাটে সামসুলহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীলস্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ

25

ফকিরহাট থেকে বাদশা আলম
বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর সামসুল হুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সীল স্বাক্ষর জালিয়াতী ও অনিয়ম দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রতিকার দাবী করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১ সদস্য জেলা শিক্ষা অফিসার এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগে জানা গেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর সামসুল হুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ শেখ সাম্প্রতিক সময়ে রুপালী ব্যাংক বেতাগা বাজার শাখা হতে তার বেতনের জামানতে একটি লোন উত্তোলন করেছেন। নিয়মানুযায়ী সেই লোনের আবেদন ফর্মে তাঁর প্রত্যায়নকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এর সীল ও স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। সেই সীল স্বাক্ষরে উক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটি, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তাহার লোনের আবেদন ফর্মে সভাপতি অথবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরের স্থানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এসএম হিসামূল হককে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজিয়ে স্বাক্ষর করান। শুধু তাই নয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সীল মোহরও জাল করে ব্যাংকে জমা দিয়ে লোন উত্তোলন করেছেন। যা অনিয়ম ও দুর্নীতির সামিলমাত্র। এছাড়াও তাহার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের একাধিক আর্থিক হিসাবে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির ও অর্থ আতœসাতের নানা অভিযোগ এনে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শেখ আকতারুজ্জামান টুকু ৭ অক্টোবর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজ শেখ এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি লোনের আবেদন ফর্মে একাডেমিক সুপারভাইজারকে দিয়ে স্বাক্ষর ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সীল মোহর ব্যাবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মারা যাওয়ায় তিনি এই পথ অবলম্বল করেছেন। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার এসএম হিসামুল হক এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি স্বাক্ষর করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে আমি সরল মনে স্বাক্ষর করেছি। এবিষয়ে (ভারপ্রাপ্ত) জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অসিম কুমার দাশ এর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মারা যাওয়ায় পদটি এখন শুন্য রয়েছে। সেই পদে স্বাক্ষর করার কারো নিয়ম নাই। যদি কেউ করে থাকেন তাহালে নিয়মনীতি মালা মোতাবেক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি অভিযুক্ত হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেবেন।