ফুলতলা কৃষি ব্যাংকে দূর্নীতির চিত্র : লাখে ১০ হাজার, না দিলে লোন হবে না

4516

আবু হামজা বাঁধন,ডেক্স রিপোর্ট।

ঘুষ দিলে মিলবে ব্যাংক লোন। না হলে লোনের জন্য ঘুরতে হবে মাসের পর মাস। এমন দৃশ্য দেখা মেলে খুলনার ফুলতলা শাখার কৃষি ব্যাংকে। অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র প্রায় এ ব্যাংকে দেখা মেলে। বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফুলতলার এ ব্যাংকটিতে লোন নিতে আসেন মশিয়ালী গ্রামের মোফাজ্জেল গাজী । তাকেও গুণতে ২০ হাজার টাকা। এ যেন এ ব্যাংকের লোনের নিয়ম হিসেবে দাঁড়িয়েছে প্রতিলাখে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার রেওয়াজে। এত সব দূর্নীতির বরপূত্র ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তবে নেপথ্যে রয়েছেন অনেকেই।
সময়ের প্রহর গুনতে গুনতে অবশেষে হাতে আসে আমিনুল ইসলামের ঘুষ গ্রহণের ভিডি চিত্র। টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ক্যামেরা আমিনুলের পিছু ছাড়ে না। অবশেষে ঘুষের ২০ হাজার টাকা ঠাঁই পেল কৃষি ব্যাংকের আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত ড্রয়ারে। এরই মধ্যে ব্যাংক ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান তদবির শুরু করেন। অবশেষে কোন তদবিরে কাজ না হলে আমিনুলকে লোক দেখানো বেশি কথা বলেন।
এখানেই শেষ নেয় আমিনুল ইসলামের দূর্ণীতির চিত্র। এর আগেও বেশ কয়েকজন লোন গ্রহীতাদের থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। একটি কল রেকর্ড আমাদের হাতে আসে। সেই কল রেকর্ডের সূত্র ধরে অবশেষে গর্তের সাপ বেরিয়ে আসে। শুধু আমিনুল ইসলাম নয়, এ ব্যাংকের আরো কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
দুদকের ইনফরসমেন্ট শাখা জানান, সচিত্র ভিডিও চিত্র বা কোন প্রমাণাদি আমাদের হাতে আসলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষি ব্যাংক, খুলনা বিভাগীয় শাখার জেনারেল ম্যানেজার শফিউল আজম বলেন,“ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম বা দূর্নীতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
ফুলতলা কৃষি ব্যাংকের শুধু আমিনুল নয় বরং এর নেপথ্যে রয়েছে আরো অনেক বড় রাঘব বোয়াল। তাদেরকে আইনের আওতায় আনলে বেরিয়ে আসবে অজানা অনেক দূর্নীতির চিত্র। তাই দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমিনুলদের মত কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন আসছে…..