ইলিশ পাঠানোর দিনেই পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করল ভারত

39

ভারতে পদ্মার ইলিশ রপ্তানির দিনেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করল ভারত। সোমবার বিকালে বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১২ টন ইলিশ।

পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পিয়াজভর্তি ১৫০টি ট্রাক। একই অবস্থা অন্যান্য স্থলবন্দরেও। ভারতের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সোমবার কিছু নীতিগত পরিবর্তন হওয়ার কারণে পিয়াজের রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনো পিয়াজের গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালের দিকে ৫০ টন পিয়াজ প্রবেশের পরপরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পিয়াজ রপ্তানিকারকদের সংগঠন। বিকালের দিকে দুই ট্রাক পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানি করলেও পিয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানিতে তাদের মন গলেনি।

বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষে ব্যবসায়ী কার্তিক ঘোষ বলেন, পিয়াজ রপ্তানিকারক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৭৫০ ডলারের নিচে বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি করবে না।

সে কারণে অনেকগুলো পিয়াজভর্তি ট্রাক বর্ডারে দাঁড়িয়ে আছে।

বেনাপোলের পিয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য শুরুর পর থেকে ২৫০ ডলারে পিয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। ভারতে বন্যার কারণে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকরা স্থানীয় বাজারের দর হিসাবে ৭৫০ ডলারের নিচে বাংলাদেশে পিয়াজের রপ্তানি করবে না। এ জন্য পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ভারত কোনো ঘোষণা ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রপ্তানি বন্ধ না করে পিয়াজের আমাদানিকারকদের সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি।

এদিকে পিয়াজের আমদানি বন্ধের খবরে নড়েচড়ে বসেছেন বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থানের পিয়াজের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার আগেই খুচরো বাজারে পিয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।