ডাক সেবার মান বৃদ্ধিতে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন পিএমজি, দক্ষিণাঞ্চল তরুণ কান্তি সিকদার

362

আবু হামজা বাঁধন।।
এক সময় খুলনা পিএমজি ভবনে প্রবেশ করলে দেখাযেত নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। বলা যায় সম্পূর্ণ ভুতূড়ে পরিবেশ ছিল পুরো পিএমজি ভবন এলাকাজুড়ে। ২০১৯ সালের ১৩ জুন এই বাগেরহাট জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতিশ চন্দ্র সিকদার এর সুযোগ্য সন্তান তরুন কান্তি সিকদার পোস্ট মাস্টার জেনারেল (দক্ষিণাঞ্চল) এর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বদলে যায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলের ডাক বিভাগের সেবার ধরন। নতুন আঙ্গিকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হয় পুরো দক্ষিণাঞ্চল জোন। সেবার মান বৃদ্ধিতে কোন আপোষ নেই। এই চিন্তাধারাকে সাথে নিয়ে কাজ করার কঠোর নিদের্শনা দিয়েছেন পিএমজি তরুন কান্তি সিকদার। ফলশ্রুতিতে এ সার্কেলের প্রতিটি শাখা ভিন্ন রুপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সু সজ্জিত পিএমজি ভবন
সু সজ্জিত পিএমজি ভবন

এখন পিএমজি ভবনের মধ্যে প্রবেশ করলে দেখা যাবে সাদা ও লাল রঙ্গের ছোঁয়াই মনমুগ্ধ পিএমজি ভবন। একটু ভিতরে গেলে দেখা মিলবে সু-সজ্জিত পার্ক, পানির ফোয়ারা। সেই কর্মচারিদের আবাসন ভবন এখন আর জরা-জীর্ণ নেই। সব কিছুই একটি যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটেছে। সেই পরিবর্তনের রূপকার হলেন পোস্ট মাস্টার জেনারেল (পিএমজি) দক্ষিণাঞ্চল তরুন কান্তি সিকদার।
তথ্যমতে, পিএমজি তরুণ কান্তি সিকদার যোগদানের পর থেকেই পরিবর্তনের বিপ্লব ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চল জোনে। লজিস্টিক সাপোট এর স্বল্পতা, জনবলের ঘাটতি, সবকিছু মিলিয়ে নানা সংকট থাকার পরেও কর্মকর্তা কর্মচারিদের কাজের প্রতি মনোবল বৃদ্ধি করে ডাক সেবার একটি নতুন ধারা উম্মোচিত করেছেন এ কর্মকর্তা। বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে কোন বাধাকে বাধা বলে মনে হবে না বলে জানান তরুন কান্তি সিকদার।


জানাযায়, পিএমজি ভবনের অভ্যান্তরে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার। মূলত জাতির পিতাকে জানার জন্য এ উদ্যেগ গ্রহণ করেছেন এখানকার পিএমজি। এছাড়াও জরা-জীর্ণ পিএমজি ভবন নতুন করে মেরামত করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ সীমানা প্রাচীর গুলো ভাঙ্গা ছিল। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল আবাসিক ভবনের মধ্যে বসবাসরত কর্মচারিবৃন্দ। সম্প্রতি এই সীমানা প্রাচীরগুলো মেরামত করা হয়। এছাড়া পিএমজি নিয়ন্ত্রনাধীন কয়েকটি জরা-জীর্ণ পোস্ট অফিসকেও ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়মিত শুদ্ধাচার প্রশিক্ষন প্রদান করেন স্বয়ং পিএমজি তরুন কান্তি সিকদার। এছাড়া তিনি এ সার্কেলের আওতাধীন অফিসগুলোতে আকস্মিক পরদর্শন করে থাকেন । ফলে কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা কাজের প্রতি উৎসাহ পায় এবং দূর্নীতি বা অনিয়মের চিত্র শূন্যর কোটায় থাকে বলে জানাযায়।

দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পিএমজি তরুন কান্তি সিকদারের কঠোর পরিশ্রমে দক্ষিণ অঞ্চল খুলনা জুড়ে ডাক বিভাগ অনেকটা কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে এসেছে। পিএমজি দক্ষিণাঞ্চল তরুন কান্তি বলেন , “আমি টেবিল চেয়ার দখল করতে আসেনি, আমি কাজ করতে এসেছি, আমার কর্ম এলাকায় কোন দূর্ণীতি অনিয়ম থাকবে না”। সুতরাং সবাইকে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা মূলক কাজ করে ডাক বিভাগের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন , “ডাক সেবার মান্নয়নে কোন বিকল্প নেই , প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত অর্জন করতে হবে”। এক প্রশ্নের জবাবে পিএমজি তরুণ কান্তি সিকদার আরো বলেন, ক্ষমতার চেয়ার এক সময় থাকবে না। তবে আমার রেখে যাওয়া ভাল কাজগুলো আজীবন বেঁচে থাকবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশে বি-নির্মাণে একজন সরকারের সামান্য কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির শেষদিন পর্যন্ত সততার সাথে কাজ করে যেতে চাই। শুধু আমার কর্মকর্তা বা কর্মচারি নয়, খুলনার সকল শ্রেনীর মানুষের সহযোগিতা ডাক বিভাগের সেবার মান বৃদ্ধিতে একান্ত প্রয়োজন। (আগামী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আসছে……)