করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিদের কথা

17

স্টাফ রিপোর্টার

মরনব্যাধি করোনা ভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব, এর ছোবল পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলার গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়েছে এই করোনা ভাইরাসের আতংক, তবে এখন ঘুরে দাড়াচ্ছেন অনেকেই।  মানুষকে সাহস জোগাতে ডাক্তার, পপুলিশের পাশাপাশি কর্মহীন মানুষের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন কিছু প্রচার বিমুখ মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে তারা ঝাপিয়ে পড়েছেন এই করোনা যুদ্ধে।  আজকের প্রতিবেদনে জানাবো পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কিছু স্বার্থহীন জনপ্রতিনিধিদের কথা।

প্রথমেই আসব পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক এবং মাঝপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল গফুর মিয়ার কথা। পর পর চার বার নির্বাচত জননন্দিত চেয়ারম্যান রাতের আধারে পৌঁছে দিয়েছেন অন্নহীন পরিবারে খাদ্যশস্য যা অনেকটাই ছিল প্রচারের আড়ালে। এলাকা ঘুরে জানা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এলাকাবাসীকে নিরাপদে রাখার লক্ষে সরকারী অনুদান আসার আগেই করেছেন ত্রান বিতরন।
তার এলাকায় প্রায় দশ হাজার পরিবারে ত্রান বিতরন এবং চার হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন নিজস্ব তহবিল থেকে। পরবর্তীতে সরকারী অনুদানের ত্রান সহায়তাও সুষ্ঠুভাবে বিতরন করেছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সি আই এন টিভি ২৪ অনলাইনকে বলেন, “আমাকে আল্লাহ যথেষ্ট দিয়েছেন। এই বিপদে যদি সেই অর্থের দ্বারা কারো উপকারই না করতে পারি তাহলে কি লাভ এই অর্থ দিয়ে ।  আমার এই অর্থ দ্বারা যদি কোন মানুষের কিঞ্চিৎ উপকার হয়ে থাকে তাহলেই আমি সার্থক।”
একই উপজেলার আরো একজন প্রচারবিমুখ মানুষ হলেন চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম কামাল। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায় তিনি করোনাকালীন সময় কমপক্ষে প্রায় দশ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তাছাড়া তার উৎপাদিত প্রায় পাঁচ শত কেজি পেয়াজ, তার জমির উৎপাদিত  ছয়শত মিষ্টি কুমড়া বিক্রি না করে সবাইকে বিতরণ করেছেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সি আই এন টিভি ২৪ অনলাইনকে  জানান,” সরকার থেকে যে পরিমান ত্রান এসেছে তা চাহিদার তুলনায় ছিল খুবই অপ্রতুল। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা আমাদের ইউনিয়নের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বাকি অবস্থা এলাকাবাসী জানেন। তবে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে তিনি শুধু শহর নয়, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবে নগদ সহায়তা হিসেবে ২৫০০ টাকা করে পাঠিয়েছেন তাও আবার সরাসরি ভোক্তার মোবাইল একাউন্টে। “
সদর কেন্দ্রিক হলেও উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।  কয়েকজন করোনা আক্রান্ত হওয়াতে ভয় ছিল এই এলাকায় একটু বেশী। দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হামিদ মোঃ মোহাঈম্মীন হোসেন চঞ্চল আমাদের মূঠোফোনে জানান, “সরকার থেকে ত্রান দিলেও পরিবহন খরচ না দেয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে।  ত্রান আনায় যে পরিমান খরচ যায় তা দিয়ে আরো দুই থেকে তিনশ পরিবারের পাশে দাড়ানো যেত। তাছাড়া আমরা করোনা পরিস্থিতির পর আমাদের কৃষিভিত্তিক এই এলাকায় যাতে আবারো প্রান ফিরে আসে তার জন্য সরকার রবিশস্যের বীজ ও সার বিতরণ শুরু করেছে যা অনেকটাই কাজে আসছে। এই ধরনের কাজের ফলে কৃষকরা প্রান ফিরে পেয়েছে যা আমাদের করোনা পরবর্তী অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।  এমন উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
আটঘরিয়ার একদন্ত ইউনিয়নে করোনার পাশাপাশি  হানা দিয়েছে বন্যা। যার ফলে ক্ষতির পরিমান একটু বেশী। করোনাকালীন সময় বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলেও বন্যায় ক্ষতির কারনে বেড়ে যায় ত্রানের চাহিদা। এলাকার বিত্তবান ব্যক্তি ও সেচ্ছাসেবীদের ত্রান সহায়তার ফলে কিছুটা সাময়িক সমস্যা দূর হলেও এখনো হয়নি কোন স্থায়ী সমাধান। বন্যায় বীজতলা ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগাম রবিশস্য চাষীরা।
একদন্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল হোসেন সরদার সি আই এন টিভি ২৪ অনলাইনকে জানান, “করোনার পাশাপাশি বন্যার কারণে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তবে সরকারের তাৎক্ষনিক সহায়তা এবং সকলের সহযোগিতায় এই সমস্যা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। তবে আমার ইউনিয়নে আরো একটু বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। “
উপজেলা থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লক্ষীপুর ইউনিয়নের অবস্থা একদন্তের চেয়ে বেশী খারাপ। চিকনাই নদীর পাশে অবস্থিত এই ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে আরো বেশী। তবে সমস্যার কথা সি আই এন টিভি  ২৪ অনলাইনে জানালেন লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,”সরকার ত্রান দিচ্ছে কিন্তু পরিবহন খরচ দিচ্ছে না যার জন্য ত্রান বিতরন এর খাদ্যশস্য আনতে অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। উপজেলা থেকে প্রতিটন চাল খাদ্যগুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত আনতে খরচ হয় প্রায় ১৫০০ টাকা, সময়ভেদে ১৭০০ টাকাও খরচ হয়। এবার করোনাকালীন জি আর চাল বরাদ্দ এসেছে ৪০.৯৪০ টন। তাছাড়া বন্যার চাল, ভিজিএফ এর চাল তো আছেই।  এত পরিমান খরচ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ এর পক্ষ থেকে ত্রান আনা সম্ভব হয় না তাছাড়া আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিলেও অনেক সময় ধার করে দিতে হচ্ছে যার ফলে সেই ধার শোধ করতে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন আমাদের ত্রান খাদ্য গুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দিন।”