ফকিরহাটে শসার বাম্পার ফলন 

14
বাদশা আলম, ফকিরহাট থানা প্রতিনিধিঃ     
বাগেরহাট জেলার  ফকিরহাট উপজেলায়  এ বছর শষার বাম্পার ফলন হয়েছে। হাসি ফুটেছে উপজেলার শষা চাষীদের মুখে। করোনার পরিস্থিতিতে কিছুটা  দুশ্চিন্তা থাকলেও অবশেষে হাসি খুশিতেই আছে এ অঞ্চলের শষা চাষীরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর শসার বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে শাষিদের মুখে । প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠে পরিবারের সবাই মৎস্য ঘেরের পাড়ে লাগানো সবজি ক্ষেত থেকে শসা তুলে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় এনে বিক্রি করছেন ফরিয়াদের কাছে। প্রতিদিন জেলা থেকে ৮০ থেকে ৯০ ট্রাকে শসা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে। জেলায় এ বছর কচুয়া, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলায় শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এর মধ্যে সব থেকে বেশি শসা উৎপাদন হয় জেলার চিতলমারী উপজেলায়।
এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েকশ টন শসা ক্রয় করে বিভিন্ন জেলায় পাঠায় ব্যবসায়ীরা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও শসার বাম্পার ফলন ও ভাল দামে বিক্রি হওয়ায়  খুশি এই জনপদের সাধারণ শসা চাষীরা। প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ মন পর্যন্ত শসা বিক্রি করি। এবার ফলনও যেমন বেশি হয়েছে।দামও মোটামুটি ভাল পাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি অথবা ৪‘শ থেকে ৬‘শ টাকা মন বিক্রি করছে। বাগেরহাট জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৬ হাজার ২ শ ৭৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিকটন সবজি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা রয়েছে।তবে জেলায় এবছর ৫০ হাজার টনের বেশি শসা উৎপাদন হবে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এই শসা।কোন প্রকার দালাল ছাড়া সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর ডেল্টা টাইমস্-কে বলেন,বাগেরহাট জেলায় সবজি আবাদের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার সময়মত বীজ, সার ও ঋণ প্রবাহ সচল রেখেছেন। যার ফলে এবছর বিভিন্ন সবজি বিশেষ করে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর বাগেরহাটের কয়েকটি উপজেলায় ৫০ হাজার টন শসার ফলন হবে। আমরাও কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি সহযোগিতা ও বাজারজাত করণের পরামর্শ দিয়েছি।যাতে কৃষকরা লাভবান হতে পারে সেজন্য আমাদের সব ধরণের চেষ্টা রয়েছে।