টার্গেট অর্থবিত্তবান পুরুষ, ফাঁদে পড়লেই সবশেষ , কে এই রুপসী নুপুর ?

179

স্টাফ রিপোর্টার
পুরো নাম হুমায়রা আক্তার। ডাক নাম নুপুর। বয়স ২৬। বাবার নাম হুমায়ূন কবির জোমাদ্দার। বাবার বাড়ি বাগেরহাট জেলা সদরের সরুই পিসি কলেজ রোড।
রূপসী-সুন্দরী এই নুপুরের বিরুদ্ধে প্রেমের জালে পুরুষকে আকৃষ্ট করা এবং বিবাহিত হওয়ার পরও কুমারি সেজে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অর্থ-সম্পদ লুটে এক স্বামী ছেড়ে তথ্য গোপন করে পূণরায় বিয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্যও ফাঁস হয়েছে।
এদিকে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে এক বছর যেতে না যেতেই প্রথম স্বামীর বাড়ি থেকে মোটা অংকের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় নুপুরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি এবং আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও নুপুর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নতুন স্বামীকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নুপুরের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এখন দু’ স্বামীর পরিবারে অশান্তির কালো ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এ ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নুপুর ও তার সহযোগিদের শাস্তি দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হুমায়রা আক্তার নুপুর বরিশালের বাকেরগঞ্জে ‘কোডেক’ নামে একটি এনজিওতে চাকরি করতো। এই সুবাদে সে প্রেমের জাল বিস্তার করে। তার ওই জালে জড়িয়ে যান বরিশাল জেলা সদরের নূরিয়া স্কুল সংলগ্ন ডেঙ্গু সড়কের সরদার গলির বাসিন্দা ইউসুফ আলী মৃধার পুত্র ঠিকাদার বশির মৃধা। প্রেম বিনিময়ের এক পর্যায়ে গত বছরের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু নুপুরের ভালো মানসিকতার মুখোশের আড়ালের কুচ্ছিত প্রতারণা বুঝতে ব্যর্থ হন ঠিকাদার স্বামী বশির মৃধা।
সূত্র মতে, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল নুপুরের বাবা-মা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। জামাই বশির শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে সাধ্যমত আপ্যায়ন করে কাজে বের হন। নুপুর ঘরে থাকা স্বামী বশিরের ঠিকাদারি কাজের নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসায় তালা লাগিয়ে তার বাবা-মাসহ বের হয়ে যায়। মূলত: তারপর থেকেই লাপাত্তা হয় নুপুর। বশির মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে খোঁজার চেষ্টা না করতে এবং এ বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে উল্টো তাকেই জেলের ভাত খাওয়ার হুমকি দেয় স্ত্রী নুপুর ও বাবা।
এ বিষয়ে নুপুরের স্বামী ঠিকাদার বশির মৃধা অভিযোগ করে বলেন, নুপুর তাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ের পর মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই নিঃস্ব করে পালিয়েছে। এ বিষয়ে তার বাবা-মাও তাকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি নুপুরের বাবা তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলাসহ জীবন নাশেরও হুমকি দেয়। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন- উল্লেখ করে এ ধরণের প্রতারণার শাস্তি দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি ৩ জুন বরিশাল সদর থানায় সাধারণ ডায়রি এবং ২৮ জুলাই বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্ত্রী হুমায়রা আক্তার নুপুর এবং তার বাবা হুমায়ূন কবির ও মা হাসমত তারাকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতে মামলাটি চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, স্বামী বশিরের অর্থ-সম্পদ লুটে পালিয়ে আসার কিছু দিনের মধ্যেই প্রতারক নুপুর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসে। তবে, এবার বরিশাল নয় সমুদ্র বন্দ্রর মোংলায়। বিয়ে করেন মোংলা পৌরসভা এলাকার শিল্পপতি মো. হানিফের পুত্র শিপিং ব্যবসায়ী মো. মিরাজকে। এখানেও যথারীতি সে আগের বিয়ে অস্বীকার এবং তথ্য গোপন করে কুমারি সেজেই কাবিন নামায় স্বাক্ষর করে।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন দ্বিতীয় স্বামী মিরাজের মা নিজেই। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তার ছোট ছেলে মিরাজকে বিয়ে দিয়েছিলেন, সেখানে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্ত্রী’র সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক মাস আগে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়। এরপর থেকে তিনি ছেলের বিবাহের জন্য মেয়ে খুঁজছিলেন। এরই মধ্যে তাবলীগের কাজ করার সুবাদে নুপুরের নানী আসমার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল তার ও তার স্বামীর ছোট ভাইয়ের (দেবর) স্ত্রী ঝর্ণার। ছেলের জন্য মেয়ে খোঁজার বিষয়টি আলোচনার এক পর্যায়ে নুপুরের নানী তাদেরকে নুপুরের কথা বলেন। তারা জানান, নুপুর মাস্টার্স পড়ছে এবং অবিবাহিত। কথা-বার্তার এক পর্যায়ে গেল রমজানের আগ মুহুর্তে লকডাউন চলাকালীন নুপুরকে নিয়ে তার নানী ও আত্মীয়রা মোংলায় তাদের বাসায় আসেন। তখন মিরাজকে দেখালে তারও পছন্দ হয়। এ বিষয়ে তিনি নিজেও নুপুরের বাবা-মাকে ফোন করে মেয়ের আগে বিয়ে ছিল কি-না জিজ্ঞাসা করলে তারাও বিয়ে হয়নি বলে জানান। এরপরই মূলত: স্থানীয় আন্দাইরা গ্রামের কাজী বোরহান উদ্দীনকে দিয়ে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে পড়ানো হয়।
মিরাজের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজের পছন্দের মেয়ের সঙ্গে তিনি ছেলেকে বিবাহ দিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নুপুরের আচারণ তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এরই মধ্যে মোবাইলে তার কথপোকথনের এক পর্যায়ে তার আগের বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হলে ঈদের রাতেই নুপুর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে তিনি ওই মেয়েকে রাখতে না চাইলে এমনকি আরও তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে নুপুর তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকেন। এক পর্য়ায়ে ঈদের পরই নুপুর তার ছেলেকে পুরো কন্ট্রোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। গত ৩/৪ মাস ধরে তাদের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ নেই। এমনকি তারা কোথায় আছে- তাও তিনি জানেন না।
তিনি নুপুর ও তার বাবা-মায়ের প্রতারণার শিকার হয়েছেন- উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ছেলেকে একটি কুমারি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন, কারও বউ-এর সঙ্গে বিয়ে দেননি। কিন্তু পরে জানতে পারেন নুপুর বিবাহিত। এমনকি তার বাবা-মাও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এখন প্রতারক নুপুরের ফাঁদে পড়ে তার ছেলেও বাড়ি ছাড়া। তিনি ছেলেকে ফেরত পাওয়া এবং নুপরের মত এ ধরণের অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।