জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

17

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে পালন করেছে দেশবাসী। এবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে সরকার এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দেশজুড়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তার তিন ছেলে- ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল এবং দশ বছর বয়সী শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, ভাই শেখ নাসের, কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মণি এবং তার স্ত্রী আরজু মণি, শিশু সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ ও আবদুল নাঈম খান রিন্টুসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ১৮ জন সদস্য নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল উদ্দিন আহমেদ (বীর উত্তম) নিহত হন। একই দিনে খুনিদের কামানের গোলায় মারা যান রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও।

দিবসটি পালনে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর শহীদ পরিবারের সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল জোহর নামাজের পর দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি টিভি ও রেডিও স্টেশনগুলো বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এদিকে, ১৫ই আগস্ট ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ৯০ টাকা মূল্যের ১৮টি ডাকটিকিটের একটি সেট, ১০ ও ১০০ টাকা মূল্যের দুটি উদ্বোধনী খাম এবং একটি ৫ টাকার ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার স্মরণে নির্মিত জাদুঘরের (পূর্বতন বাসভবন) সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রতিকৃতির বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে এ সময় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মেয়ে, বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা এবং তার পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত ভবনটিতে যান (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। যেখানে ’৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ইতিহাসের বর্বরতম এক হত্যাযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী পরে বনানী কবরস্থানে যান। যেখানে তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলসহ সেদিনের ঘটনায় নিহত পরিবারের অন্য সদস্যদের সমাহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর কবরগুলোতে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। তিনি সেখানে ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়ায় শরিক হন।

স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের শ্রদ্ধা
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে গতকাল পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় স্পিকার ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শাহাদতবরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন এবং তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। এদিকে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার এবং চিফ হুইপ বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টে সকল শহীদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের অবশিষ্ট খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ।

যুবলীগের নানা কর্মসূচি পালন
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। গতকাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনটি। সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এরপর ধানমণ্ডি থেকে যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তারা বঙ্গমাতা ও জাতির পিতার পরিবারের সদস্য ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার স্ত্রী আরজু মণির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে তারা মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং কেন্দ্রীয় অফিসে মিলাদ মাহফিল ও দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে তবারক বিতরণ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা সহ মহানগর ও ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।