ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে অর্থ লুটের অভিযোগ বহুলালোচিত নারী লুৎফার বিরুদ্ধে

20

স্টাফ রিপোর্টার
নৌ বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করতে এসে উল্টো সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন খুলনার বহুলালোচিত নারী লুৎফা বেগম। সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য তুলে ধরে তাকে প্রশ্ন করায় আসল চেহারা উন্মোচিত হওয়ার ভয়ে সে তড়িঘড়ি করেই তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে যায়।
স্বামী-সন্তান থাকতেও ইতিপূর্বে সে একাধিক অর্থ-বিত্তশালী সম্মানি ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে অর্থ লুটে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন নৌ বহিনীর সদস্য নগরীর খালিশপুরস্থ আলমনগর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেন কাজীর পুত্র মো. ইলিয়াস কাজী।
অভিযোগ রয়েছে, সহজ-সরল ইলিয়াস কাজীকে ফাঁদে ফেলে বিবাহের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দেনমোহরসহ যাবতীয় পাওনা বুঝে নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করার পরও তার কাছ থেকে আরও অর্থ আদায়ের বহুমুখি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে লুৎফা বেগম। তারই অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি, নৌ বাহিনীতে অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডসহ কেসিসি’র ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম খুরশিদ আহমেদ টোনার কাছেও অভিযোগ দাখিল করেছে। কিন্তু সবার কাছেই তার প্রকৃত চেহারা ফাঁস হওয়ায় ইলিয়াস কাজীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে সে সংবাদ সম্মেলনের পথ বেছে নেয়। কিন্তু তাতেও সুবিধা করতে পারেনি সে। তবে, কাউন্সিলর মুন্নাকে ভুল বুঝিয়ে তাকে দিয়ে হয়রাণি করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে হয়য়রাণির অভিযোগ এনে সাবেক স্বামী ইলিয়াস কাজী লুৎফা বেগমের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে নৌ সদস্য, নগরীর খালিশপুরস্থ আলমনগর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেন কাজীর পুত্র মো. ইলিয়াস আলী উল্লেখ করেন, তিনি গত ২২ ফেব্রুয়ারি অফিসের কাজে চট্রগ্রাম যান। সেখান থেকে কাজ শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় ফেরার পথে চট্রগ্রাম নৌ বাহিনী হাসপাতালের গেট থেকে লুৎফা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোক তাকে জোর পূর্বক ধরে একটি সিএনজিতে তুলে একটি কাজী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ১ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে বিবাহ রেজিস্ট্রি করে। পরবর্তীতে তিনি খুলনায় ফিরে নগরীর খালিশপুরস্থ চরেরহাট দত্তপাড়ায় লুৎফার স্বামী শাজাহানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে মাত্র এক সপ্তাহ পর ২ মার্চ তাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে দেনমোহর ও খোরপোষসহ সকল পাওনা বুঝিয়ে দেন। পাওনা বুঝে পেয়ে ৪ মার্চ লুৎফা বেগম স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে তার সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে।
ইলিয়াস আলী অভিযোগ করেন, তালাক এবং পাওনা বুঝে পাওয়ার পরও লুৎফা বেগম তার স্বামীর প্ররোচনায় তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি এবং মামলার ভয় দেখাচ্ছে। এ কারণে তিনি তার বিরুদ্ধে ২ মার্চ খালিশপুর থানায় জিডি করেছেন।
ভূক্তভোগী ইলিয়াস কাজী আরও অভিযোগ করেন, লুৎফা তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে চাকরি দেয়ার নামে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছে। যার কোন ভিত্তি নেই। বরং সে তার কাছ এক দফা টাকা নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি, আরও দেড় লাখ টাকা নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কোথাও সুবিধা করতে না পেরে সে কাউন্সিলর ও কেসিসির প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্নাকে ভুল বুঝিয়ে তাকে হয়রাণি করছে। তিনি প্রকৃত ঘটনা তাকে বোঝানোর বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই লুৎফাকে দেড় লাখ টাকা দিতে বলছেন। যা তার ওপর অন্যায় ছাড়া বিছু নয়।
নৌ বাহিনী সদস্য ইলিয়াস কাজীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, লুৎফা কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্নাকে ভুল বুঝিয়েছে। যে কারণে তিনি ভুল বুঝে তাদের কোন কথা শুনতে চাচ্ছেন না। বরং লোক পাঠিয়ে বাসা থেকে তার স্বামীকে ধরে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
অপরদিকে লুৎফা বেগমের দাবি, ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে আগে থেকেই তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্রগ্রামের কাজী অফিসে তাদের বিবাহ রেজিস্ট্রি হয়। এরপর সে তাকে তালাক দিয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
#