কলাপাড়া জনপ্রতিনিধিরাই জিম্মি, ২১ পারসেন্ট না দিলে বিল পাশ হবে না : তপন কুমার ঘোষ

59

আরিফুর রহমান সেতু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ২০১৯ সালের ৩ রা জুলাই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে কলাপাড়ায় আসেন তপন কুমার ঘোষ। পরবর্তীতে ১ মাস পর ৮ ই আগস্ট পুর্নাঙ্গ দায়িত্ব নিয়ে কলাপাড়ায় আসেন তিনি। গত ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরের সরকারের বরাদ্দকৃত টি-আর, কাবিখা, ই জি পি পি সহ বিভিন্ন কাজের বরাদ্দে ২১ শতাংশ তার অফিসে না দিলে কোন বিল পাশ হত না বলে জানিয়েছেন ভোগান্তির শিকার কলাপাড়া উপজেলার বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি।

সরকার যেখানে গ্রামের উন্নয়নের জন্য এসব বরাদ্দ দিচ্ছে, সেখানে এ পরিমান টাকা অফিসে দিলে কাজ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নাম না প্রকাশ করা সত্ত্বে উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, টি আর এর এক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলে সেই চালের বিনিময়ে কাজ করানো সম্ভব হয় না। ঐ বরাদ্দকৃত চাল বাজারে বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা হতে কাজের বিল পরিশোধ করতে হয়। এখানেও রয়েছে বিড়ম্বনা। ১ টন চালের সরকারী মূল্য ধরা হয় আনুমানিক ৪৩ হাজার টাকা কিন্তু বাজারে বিক্রি করলে সেখানে পাওয়া যায় ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। এই ৪৩ হাজার টাকা হিসেবে ২১ শতাংশ যদি অফিসে দেয়া লাগে তাহলে কাজ করার জন্য কোন টাকাই অবশিষ্ট থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে ১৫ শতাংশ খরচ পি আই ও অফিসে দিয়ে এলাকার স্বার্থে কাজ করতে হচ্ছে। এমন ভাবে কাবিখা, ইজিপিপি সহ প্রায় সব কাজেই এই টাকা দিতে হয়। সরকার যেখানে গ্রামকে শহরে রুপান্তর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সেখানে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারনে আমরা অগ্রসর হতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য দূর্ভাগ্য।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, ইতিপূর্বে কয়েকবার তপন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগ  পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় এর উপ-পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী বলেন, ইতিপূর্বে তপন কুমার ঘোষের এক স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলেই আমরাও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ ব্যাপারে  কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কয়েকদফা তার ব্যবহারিত মুঠোফোনে (01713…..26) নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ফোন ধরেননি।

বর্তমান সরকার যেখানে দূর্ণীতিকে জিরো টলারেন্স হিসেবে দেখছে। সেখানে জিকে শামীম, পাপিয়া, শাহেদ এর মত রাঘব বোয়ালের হাতে হাতকড়া পড়েছে। তখন কোন শক্তির বলিয়ানে এখন পর্যন্ত দেধারছে অনিয়মের চাকা ঘুরিয়ে আসছে কলাপাড়া উপজেলার এ কর্মকর্তা। তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সিআইএনটিভি২৪ এর এক অনুসন্ধানীতে বেরিয়ে এসেছে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুধু তপন কুমার ঘোষ একা এ অনিয়মের ভাগা পায়না । এর পেছনে অনেক বড় রাঘব বোয়াল জড়িত। সেই রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে শুধু সময়ের অপেক্ষা। এদিকে কলাপাড়া উপজেলাবাসি তপন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অচীরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আগামী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আসছে………..