শিরোমনি বিসিক শিল্প নগরীতে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়ম

47

মো. আল আমিন খাঁন

খুলনার শিরোমনি বিসিক শিল্প নগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহালদশা কাটিয়ে উঠার জন্য ইতিমধ্যে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে রাস্তা নির্মাণকাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাযায়, বিসিক জামে মসজিদের পাশদিয়ে অবস্থিত রাস্তা দীর্ঘ দিন জড়াজীর্ণ ও অবহেলিত ছিল । ফলে ব্যবসায়িদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় অচল যোগাযোগ  ব্যবস্থার কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য আফিয়া  ট্রের্ডাস নামক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মনোনীত হন। কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাটির  লম্বা ৩৮০ ফিট ও চওড়া ১৬ ফিট রাস্তা নতুন করে কার্পেটিং এর কাজ শুরু হয়। তবে শুরুতেই অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ে স্থানীয় ব্যবসায়িদের চোখে।

স্থানীয় ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে জানাযায়, গত ১৩ জুলাই রাস্তার পাশের ড্রেন নির্মানাধীন সময়ে সংশ্লিষ্ট বিসিকের ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্তৃপক্ষের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকরা ইচ্ছামতভাবে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেন। এছাড়া ঢালায়ের কাঁচামাল সংমিশ্রনে কোন প্রকার  মেশিন ব্যবহার না করে শ্রমিকরা হাতে মিক্সিং করে। যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ারের সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকার কথা , সেখানে কোন ইঞ্জিনিয়ার তো দূরের কথা কর্তৃপক্ষের ছাঁয়াও পড়েনি। ফাঁকা মাঠে শ্রমিকরা ইচ্ছামত অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মান কাজ শেষ করে।

এ ব্যাপারে কথা হয় বিসিক শিল্পনগরী শিরোমনির কারিগরি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনি জানান, রাস্তার নকশা অনুযায়ি আমরা কাজ করতেছি।  ড্রেনের কাজ চলার সময় উপস্থিত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম  কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

আফিয়া ট্রের্ডাসের প্রোপাইটর এম আর দুলাল মুঠোফোনে জানান, আমি সরেজমিনে উপস্থিত ছিলাম না, আমি সব মালমাল সরবরাহা করেছি। কর্তৃপক্ষ কাজ বুঝে নিবে।

খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগের ৩৫নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক ও মের্সাস বেঙ্গল ওয়্যার মিলের প্রোপাইটর  শেখ আব্দুল হক বলেন, রাস্তার পাশে যে  ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে তার সিলেকশন বালু ও সিমেন্ট নিম্ন মানের। এছাড়া ঢালায়ের কাজে মেশিন ব্যবহার না করাটা সম্পর্ণ অনিয়ম। কোন রকম লেভেলিং করে কাজ করা হচ্ছে। আগামী এক বছরেও রাস্তা ও  ড্রেন টিকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের একটাই দাবি কোনভাবে যেন রাস্তা ও  ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম চলমান না থাকে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।