কোটালীপাড়ায় হতদরিদ্র তাসলিমাকে সরকারিভাবে ঘর তুলে দিবেন : ইউএনও

23
হিমেল সরকার-ষ্টাফ রিপোর্টার 
ক্যান্সারে আক্রান্ত হতদরিদ্র স্বামীকে হারিয়ে অসহায় তাসলিমা এখন  নির্বাক ও নিঃস্ব। একদিকে স্বামীর মৃত্যু, অন্যদিকে নেই মাথা গোজার ঠাঁই, নেই কোন অর্থ। ছোট ছোট ৪ টি ছেলেমেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে কিভাবে পথ চলবে তাসলিমা। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামের দরিদ্র ফেরীওয়াল বাদশা শেখ (সদ্য প্রয়াত) এর স্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে গত ৭ জুন নিজ বাড়িতে মারা যায় বাদশা শেখ।
স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ৩ ছেলে নিয়ে বাদশার ছিলো অভাবী সংসার। যেন নুন আনতে পান্তা ফুরাতো প্রতিনিয়ত। তাইতো সংসারের বোঝা কমাতে ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দিয়ে দেন বড় দুই মেয়েকে। দুই ছেলেকে লজিং দিয়ে ভর্তি করিয়ে দেন মাদ্রাসায়। ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু ঘুরতে না ঘুরতেই গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ছোট ছোট টিউমারে ভরে যায় বাদশার গোটা শরীর। দিশেহারা স্ত্রী তাসলিমা তখন ফকির-কবিরাজ থেকে শুরু করে স্বামীকে নিয়ে ছুটতে থাকেন এ ডাক্তার থেকে ও ডাক্তারের কাছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জণক্ষম ব্যক্তির এই অবস্থায় বাড়তে থাকে ধারদেনা। এমনকি সংসারের অবলম্বন একমাত্র গরুটিও বিক্রি করে দেন এ সময়। গত বছরের শেষের দিকে গোপালগঞ্জের চিকিৎসকেরা জানান বাদশা শেখ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। কিভাবে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাবেন? মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়ে তাসলিমার। ছোট মেয়ে মাঝবাড়ী হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তখন। সামনে বার্ষিক পরিক্ষা। স্বামীর চিকিৎসার জন্য মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে ঢাকায় কাছের এক আত্মীয়ের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠিয়ে দেন। বাড়ির জায়গা বিক্রি করে স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটেন তাসলিমা। ভর্তি করান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকায় নিজেও  বিভিন্ন বাসায় শুরু করেন গৃহপরিচারিকা কাজ। আশায় বুক বাঁধেন সুস্থ হয়ে উঠবেন প্রিয় স্বামী। কিন্তু দিন যতই যায় ততই খারাপের দিকে যেতে থাকে। অর্থের সাথে কূলিয়ে উঠতে না পেরে গত ২৯ মে স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাসলিমা। বাড়িতে এসে দেখেন ভাঙ্গা ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টির সাথে কোন ভাবে বসতি শুরু করেন। এরই মধ্যে গত ৭ জুন না ফেরার দেশে চলে যান স্বামী বাদশা শেখ। তাসলিমার চোখে পুরো পৃথিবীটাই এখন অন্ধকার। ৩ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে কিভাবে চলবে তার সংসার। ঝড়-বৃষ্টির এই দিনে কিভাবে থাকবেন ভাঙ্গা-বিধ্বস্ত এই ঘরে। যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই সবাইকে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন দরিদ্র ভোটার এই হতভাগা তাসলিমা।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এস এম মাহফুজুর রহমান সন্ধ্যায় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জনাব মহাসীন উদ্দিন এবং হিরণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়াকে সাথে নিয়ে ছুটে যান কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে আলোচিত সেই অসহায় তাসলিমা বেগমের বাড়িতে।  আগামীকাল থেকেই তাসলিমা বেগমের ঘর মেরামত এর কাজ শুরু হবে বলে আস্বস্ত করেছেন ইউএনও স্যার এবং পরবর্তীতে সরকারিভাবে নতুন ঘর তুলে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও তাসলিমা বেগমের জন্য বিধবা ভাতা সহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও মহোদয়।