গোপালগঞ্জে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

205
হিমেল সরকার : ষ্টাফ রিপোর্টার   
গোপালগঞ্জের কোটলীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া গ্রামে নিখোঁজের প্রায় ৩ মাস পরে উদ্ধার করা হলো কাঠমিস্ত্রী কমলেশ বাড়ৈ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ কাঠমিস্ত্রী কমলেশ বাড়ৈর স্ত্রী সহ ৪ জনকে আটক করেছে। স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় ওই কাঠমিস্ত্রীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা। মঙ্গলবার বিকেলে তালপুকুরিয়া গ্রামের বিলের মধ্যে একটি পুকুরপাড় থেকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। কাঠমিস্ত্রী কমলেশ বাড়ৈ (৪৫) কেনারাম বাড়ৈর ছেলে। কমলেশ বাড়ৈর ভাই রবেণ বাড়ৈ জানান, কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ (৪০) এর সাথে তাদেরই প্রতিবেশী মৎস ব্যবসায়ী মন্মথ বাড়ৈ নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ ঘটনায় এলাকার গুনিজনেরা একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেন।  এ বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ঝাটি ও মনোমালিন্য হতো। এর কারণে সুবর্ণা তার পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়। কমলেশ গত ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে নিখোঁজ হয়। কমলেশের নিখোঁজের ঘটনায় গত ৩ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় একটি  জিডি করা হয়। জিডি সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। মঙ্গলবার মৎস ব্যবসায়ী মন্মথর মাছের পুকুরপাড়ে ঐ গ্রামের বিপুল বাড়ৈ নামের এক ব্যক্তি ঘাস কাটতে গিয়ে মাটি খুঁড়া দেখতে পান। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাটি খুঁড়ে কমলেশের লাশ উদ্ধার করে । কমলেশের পরিবার লাশটি দেখে শনাক্ত করে। প্রতিবেশীরা জানান, স্ত্রী সুবর্ণার পরকীয়া প্রেমিক মন্মথর সহযোগিতায় কমলেশকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরপাড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।
কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছি পরকীয়া প্রেমের জেরেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায়  জড়িত কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ, সুবর্ণার পরকীয়া প্রেমিক মন্মথ বাড়ৈর ভাই কৃষ্ণ বাড়ৈ, সহযোগী বিষ্ণু বাড়ৈ ও মন্মথর বন্ধু কালু বাড়ৈকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। মন্মথ মঙ্গলবার সকাল থেকে পলাতক ছিলো, কিন্তু ঐদিন আনুমানিক রাত ১০টার দিকে মন্মথ কে মাদারীপুরের রাজৈর এলাকা থেকে আটক করে হেফাজতে নেয়া হয়।
এলাকাবাসী এই  নৃশংস হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।