কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরিতে শতভাগ সফলতা পেয়েছে চীন

41

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরিতে শতভাগ সফলতা পেয়েছে চীনে আবিষ্কৃত একটি ভ্যাকসিন। বানরের দেহে প্রবেশের পর এটি সফলভাবে কোভিড নাইন্টিনের ভাইরাসকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এখান থেকে আবিষ্কৃত হবে কোভিড নাইন্টিনের প্রথম ভ্যাকসিন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে মানবদেহে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। আশা করা হচ্ছে এখানেও এটি ভালোভাবে কাজ করবে। এর আগে বানরদের একটি দলকে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়া হয়। এই গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীও অংশ নিয়েছিলো। এই ভ্যাকসিন দেয়ার পর প্রাণী দেহে নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে শুরু করে।

বানরের সঙ্গে মানবদেহের গঠন ও কার্যপ্রণালী প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি মানবদেহেও কাজ করবে।
আরো আশার বিষয় হচ্ছে, বানরের দেহে এটি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনি। গবেষকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, হয়ত এই ভ্যাকসিন কাজ না করে উলটো বানরকে খারাপভাবে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। কিন্তু তা না করে এটি উলটো কোভিড নাইন্টিনের ভাইরাস সার্স-কোভ-২ এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করেছে বানরের শরীরে।
চীনের পাশাপাশি ভ্যাকসিন গবেষণায় অগ্রগতি হয়েছে বৃটেন ও ইতালীতেও। বৃটেনে ইতিমধ্যে সহস্রাধিক মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকরিতা পরীক্ষাও করা হচ্ছে। এর মূল তত্বাবধানে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। পশ্চিমা দেশগুলো ও চীনে বর্তমানে শতাধিক ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কার্যক্রম চলছে। ইউরোপের অনেকগুলো দেশ প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য। যত দ্রুত ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হবে তত বেশি মানুষের প্রাণহানি থামানো যাবে। বর্তমানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সবথেকে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের। এসব অঞ্চলে বাস করে কয়েক শত কোটি মানুষ। ফলে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের একটি বড় অংশের মানুষ বড় ধরণের মহামারির ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে সম্প্রতি ইতালি, বৃটেন ও চীনে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বড় ধরণের অগ্রগতি হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন ১২ মাসের মধ্যেই হয়ত মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে কোভিড নাইন্টিনের ভ্যাকসিন।

সূত্র ও সৌজন্যে : মানবজমিন, বিবিসি