শার্শায় গরুর খামারের মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন নাসির

13
যশোর জেলা প্রতিনিধি :
যশোর শার্শা উপজেলায় গরুর খামারের মধ্য দিয়ে নিজের জীবনের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন খামারী মোহাম্মদ নাসির। এই গো-ফার্ম থেকে কর্মের সন্ধান মিলেছে ৭০ জন মানুষের। এখন তাদেরও জিবিকার প্রধান উৎস নাসিরের এই গরুর খামার।
জানা যায়, বাবার হাত ধরে ব্যবসায় নেমে মোহাম্মদ নাসির ১০ টি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন খামার। এখন তার খামারে গরু আছে  প্রায় ৪০০। আসছে কোরবানির ঈদের বাজার ধরতে তার সাথে ৭০ জন শ্রমিক গরুর সেবায় ব্যস্ত। সীমান্তবর্তী জনপদ যশোর জেলার শার্শা উপজেলার  বর্ধিষ্ণু গ্রাম পুটখালীতে পাঁচটি বিশাল গরুর খামার গড়ে তুলেছেন কৃষক মোহাম্মদ নাসির। এদিকে, পরিশ্রমী মানুষটির সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মহলটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চান তিনি।  ২০০৭ সালে ব্যবসা শুরু করার পর থেকে নাসিরকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই বছর তিনি ১০ টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন। পরের বছর তার সাথে আরও দশটি যুক্ত হয়। ২০১০ সালে এসে গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় একশটি। আর এখন পুটখালীর আমবাগান বেষ্টিত পাঁচটি খামারে ৪০০ গরু লালন পালন নিয়ে ব্যস্ত তিনি। প্রতিবছর কোরবানি ঈদে সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর তিনি বাগআঁচড়া, সাতমাইল, সিলেট ও রাজশাহী থেকে ভাল জাতের ছোট গরু সংগ্রহ করেন। এরপর চলতে থাকে যত্নআত্তি। গরু মোটাতাজা করতে ২৫ বিঘা জমির ঘাসের সাথে খড়, ভুসি ও খৈল খাওয়ান তিনি। ২৪ ঘন্টায ফ্যান চালানো হয়। সেই সাথে গরুর গোসল এবং গোবর সাথে সাথে পরিষ্কার করার কারণে রোগাক্রান্ত হয় না। গরুর খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় এলাকার ৭০ জন শ্রমিক। তারা এই খামারে কাজ করতে পেরে বেশ খুশি।  গরু ব্যবসায়ী  নাসির  ব্যবসা বাড়াতে ব্যাংকের সহযোগিতা চান। সেইসাথে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে  ব্যবসাকে আরো বাড়াতে পারবেন এবং খামারে বাড়বে কর্মসংস্থান। পরিশ্রম গরু ব্যবসায়ী নাসিরকে আজ সফলতা এনে দিয়েছে।
কৃষক মোহাম্মদ নাসির জানান, তার এই সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাস্তবতার সাথে মিল নেই এমন কিছু অভিযোগ কুৎসা রটনা করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। মহলটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।