দাবি মেনে নেওয়াতে পরীক্ষা বয়কট থেকে ফিরে আসল ডি আই ইউ এর শিক্ষার্থীরা

29

আরিফুর রহমান সেতু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।

সাধারন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ায় সকল পরীক্ষা বয়কটের ঘোষনা থেকে সরে এসেছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এই মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইংরেজী বিভাগের ৩৫ বি ব্যাচ সহ সকল সাধারন শিক্ষার্থীরা।

এলিট ইংলিশ ক্লাবের পক্ষ থেকে মোফাজ আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্লাবের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেন।  সেখানে জানানো হয় ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পারভেজ  এবং ভি পি নাজমুল হোসেন সহ সকল ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষক, বিভিন্ন ব্যাচের সি আর,  ইংরেজী বিভাগীয় প্রধান জুবায়ের আল আহমেদ,সহকারী অধ্যাপক মিলি রহমান সহ সকলের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের   বুধবার দুপুর ২.০০ টায় ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।  সেখানে সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবি উত্থাপিত হলে কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয়ায় ক্লাব পুর্বের সিদ্ধান্ত থেকে তারা ফিরে আসে এবং ক্লাবের সকলে স্বপদে বহাল সহ সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহনের ঘোষনা দেয়া হয়।
 সোমবার হঠাৎ  জানানো হয় আগামী ১০ ই মের মধ্যে সকল পাওনা পরিশোধ করে আগামী ১৫ এবং ১৮ ই মে  তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা। এমন ঘোষণায় হতবিহ্বল হয়ে  পরে সাধারন শিক্ষার্থীরা।  ঠিক সেই সময়ে ইংরেজী বিভাগের ৩৫ বি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সকল পরীক্ষা বয়কট করে।   ব্যাচের সি আর এবং এলিট ইংলিশ ক্লাবের ভিপি নাজমুল হোসেন ৩৫ বি ব্যাচের পক্ষ থেকে পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দেন। তারই ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করে এলিট ইংলিশ ক্লাবের সভাপতি সাধারন সম্পাদক সহ কমিটির ৪৩ জন সদস্য এবং ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বয়কটের   ঘোষণা দেন।  এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ায় সকল পরীক্ষা বয়কট থেকে সরে আসে ৩৫ বি ব্যাচ সহ সকল শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ৩৫ বি ব্যাচের সি আর এবং এলিট ইংলিশ ক্লাবের  ভি পি নাজমুল হোসেন সি আই এন টিভি ২৪  অনলাইনকে জানান, আমরা আজ আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে দুপুর দুইটায় ভিডিও কনফারেন্স করি।  সেখানে বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় টিউশন ফি মওকুফ এবং সকলের পরীক্ষায় অংশগ্রহনের নিশ্চিত সহ বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করি। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে তারা ছাত্রদের সকল সমস্যার সমাধানে পাশে দাড়িয়ে তাদের সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা  করেছে এবং টিউশন ফি এর অভাবে যাতে কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বাদ না যায় সেই আশ্বাস দিয়েছেন।  অবশ্য সেখানে বিশেষ কৃতিত্ব ছিল ইংরেজী বিভাগীয় প্রধান জুবায়ের আল আহমেদ এবং সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমানের।  তারা সহযোগিতা না করলে হয়ত আমরা আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে পারতাম না।  তাই তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
 শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেয়ায় সাধুবাদ ও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইংরেজী বিভাগের ৩৫ বি ব্যাচের আরিফুর রহমান রুবেল, আশিকুজ্জামান, শরিফুল ইসলাম শাওন,  সাজিদ ইকবাল, জেনি গোমেজ, শহিদুজ্জামান শান্ত, আরিফুর রহমান সেতু,  নাগিব নাজমুল, জাহিদ হাসান,  নাদেরুল ইসলাম প্রান্ত, মাহমুদুল হাসান,  আরমান তানভির সহ সকল শিক্ষার্থী।  তারা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইংরেজী বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক জুবায়ের আল আহমেদ এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমানের নিকট তাদের সহযোগিতার জন্য৷ পাশাপাশি  এলিট ইংলিশ ক্লাবকে তাদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকায় ক্লাবের সকলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইংরেজী বিভাগের  ৩৫ বি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা । ৩৫ বি ব্যাচের নাগিব নাজমুল সি আই এন টিভি ২৪ এর অনলাইনকে বলেন,এই মহামারী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ  ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে তারা প্রমান করেছেন  ছাত্ররা কোন পন্য নয়,  তারা তাদের সন্তানের মত।  দেশের সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের সন্তানের মত দেখেন এবং মানবিক শিক্ষা দেন তবেই তো আমরা গড়তে পারব সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং আগামীর বাংলাদেশ।  এভাবেই জয় হবে মানবতার,  জয় হবে শিক্ষকতার,  জয় হবে আমাদের স্বপ্নের।