সু-কৌশলে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের ঘোষণা, বেকার হয়ে পড়বে ২হাজার নারী পুরুষ

1365

আবু হামজা বাঁধন, ডেক্স রিপোর্ট

সারাদেশ  করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ে রয়েছে। আতকে উঠেছে মানুষ। দেশে চলছে অ-ঘোষিত লকডাউন। এরই মধ্যে সুর্যের হাসি নেটওয়ার্ক নামে একটি কোম্পানী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের ঘোষনা দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালীন সরকার যেখানে ঘোষনা দিয়েছেন কোন চাকরিরত ব্যক্তিকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। সেখানে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ক্লিনিকগুলো বন্ধ হলে প্রায় ২ হাজারের অধিক নারী-পুরুষ বেকার হয়ে পড়বে।

সূত্রমতে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দেশের ৩৯৯টি থানা এলাকায় সূর্যের হাসি ক্লিনিক গুলো ইউএসএআইডি এর আর্থিক সহায়তায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। তবে ২০১৮ সালে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক নামে একটি কোম্পানী ক্লিনিকগুলো পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০২২ সাল মেয়াদ পর্যন্ত। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিকে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের ফিল্ড পর্যায়ের কর্মীদের নানা রকম আকাশ কুসুম প্রতিশ্রুতি দেয়। বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রনাধীন ক্লিনিকগুলোর কর্মরতদের খন্ডকালীন নিয়োগপত্র দেয়। নিয়োগপত্রে কখনও ১১ মাস কখনও ৪ মাস আবার কখনও ২মাসের জন্য  দেওয়া হয়। মোট তিনবার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।  শুরু হয় নানা রহস্যের কল্প কাহিনী। এর মধ্যে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক বন্ধের হুঁশিয়ারী দিতে থাকে। প্রথম দিকে ৭৪ টি ক্লিনিক বন্ধ করেও দেয়। এ তথ্যটি জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী।  ওই কর্মী আরও জানান, ক্লিনিকগুলোতে উপর মহলের বিভিন্ন চাপ আসতে থাকে। প্রতিটি ক্লিনিকে মাসিক আয়ের পরিমাণের লক্ষ্যমাত্রা দ্বীগুণ করে। যেখানে মা ও শিশুদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা অথচ চড়া মূল্যে সেবা দিতে উপর থেকে বার বার বলা হয়।

কে এই উপর মহল ? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজব শেষের দিকে। এবার আসা যাক ক্লিনিক বন্ধের দিকে। অনেক দিন ধরে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক ক্লিনিকের কর্মরতদের মাঝে গুঞ্জন আসে ক্লিনিক বন্ধের বিষয় নিয়ে। তবে সত্যিটা সামনে আসে  যখন প্রতিদিন দুপুরে টিভির পর্দায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দেখতে হয়, ঠিক তখনই।

এপ্রিল মাসের দিকে রহস্যেজনক কারণে ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত ম্যানেজার থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী সহ সকলকে বাসায় থাকার নির্দেশনা আসে। তখন ক্লিনিকগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে। ঠিক তখনই সকলের অজান্তে ক্লিনিক ম্যানেজারদের তাদের ক্লিনিকের সকল বিষয় হস্তান্তর করার জন্য নিদের্শনা আসে। তাও মৌখিকভাবে। বার বার রিজিওনাল ম্যানেজারদের বিষয়টি প্রশ্ন করলেও কোন সদত্তর পাওয়া যায় না। ক্লিনিক বন্ধের সকল কার্যক্রম যখন শেষের দিকে , তখনও উদ্ধর্তন কর্মকর্তরা মুখে কুলুপ এটে রেখেছেন। মিডিয়ার সামনে কোন কথা বলতে তারা নারাজ।

খুলনার একটি ক্লিনিক সূত্রে জানাযায়,  করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ে গণপরিবহন বন্ধ, রাস্তায় মানুষ বের হতে পারছে না। তাই ১৫৮টি ক্লিনিক একিচেটিয়া বন্ধ করলেও কর্মরতরা যাতে কোন প্রকার আন্দোলন বা সৌচ্চার না হতে পারে । তাই এ মোক্ষম সময় বেছে নিয়েছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক বন্ধের জন্য।

তথ্যমতে, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কে চিহ্নিত (কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ) ক্লিনিকগুলো হস্তান্তরের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে ক্লিনিক ম্যানেজারদের। এদিকে ১৫৮টি ক্লিনিকের কর্মরতদের চাকরির মেয়াদ আছে জুন মাস পর্যন্ত। এরপর শূণ্যহাতে ফিরতে হবে প্রায় ২ হাজার কর্মীদের। তখন ছাটাইকৃতদের পরিবারের প্রায় ২০/২৫ হাজার সদস্যদের চরম দারিদ্রতার সম্মূখীন হতে হবে।  একদিকে করোনা বিপর্যয় অন্যদিকে বেকারত্ব। এই দুই অভিশাপে জর্জড়িত রয়েছে চিহ্নিত ক্লিনিকগুলোর কর্মীরা।

কথা হয় খুলনা রিজিওনাল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, ক্লিনিক বন্ধের বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন চিঠি পায়নি।

এদিকে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের হেড অব বিজনেস ডেভোলপমেন্ট মনিরুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান, ক্লিনিকগুলো পর্যালোচনা করেই সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্লিনিক বন্ধের বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এর সচিব মো. আলী নূর জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি, এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষথেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রানাধীন ১৫৮ টি ক্লিনিক বন্ধের বিষয় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনই কড়াকড় পদক্ষেপ গ্রহণসহ সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের কার্যক্রমকে আরো নজরদারি রাখার জন্য সচেতনমহল পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া  সূর্যের হাসি যেন কালো মেঘে ঢেকে না যায় , আর কোন কর্মী যেন ছাটাই না হয়, আর কোন পরিবারের অভিভাবক যেন চাকরিহীন না হয় । সেদিকে সু-নজর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কে কর্মরতরা। (আগামী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আসছে)