ব্যবসায়িক স্বার্থে আমাদের কিট গ্রহণ করা হয়নি: ডা. জাফরুল্লাহ

20

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট গ্রহণ করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বরং তাদের আচরণে মধ্যে ‘ঘুষ’ লেনদেনের ইঙ্গিত লক্ষ্য করা গেছে। বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ রোববার বিকেলে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর বিক্রম মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিট হস্তান্তর করার জন্য পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিন জন গবেষক অধ্যাপক ড.বিজন কুমার শীল, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও ড. ফিরোজ আহমেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে। কিন্তু তিনি সেই কিট গ্রহণ করেননি, বরং গবেষক দলের সদস্য ড. ফিরোজ আহমদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তিনি বলেন, এত বড় একটি জাতীয় দুর্যোগ চলছে, কিন্তু কিছু সরকারি আমলা সেই দুর্যোগটিই বুঝতে পারছেন না। তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের উদ্ভাবিত কিটের অনুমোদন পেয়েছি এটি কখনো বলিনি। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ওষুধ প্রশাসনের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওষুধ প্রশাসন এমন লোকের দ্বারা নিযন্ত্রণ হচ্ছে, যারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মা পলিটিস, না ক্লিনিক্যাল। তারা জিনিসটার গুরুত্বই উপলব্ধি করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দ্বারা তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।  তিনি বলেন, তারা কিট জমা না নিয়ে বলেন, সিআরও নিয়ে আসেন। তারপর বললেন, ভেরিফিকেশন করে আনেন সিআরও থেকে। সিআরও হলো চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওখানে পয়সা দিতে হবে। কত খরচ লাগবে, তা উনারা (সিআরও) বাজেট দেবেন। পরে আইসিডিডিআরবি থেকে ভেরিফিকেশন করিয়ে আনার কথা বলেন। কিন্তু আইসিডিডিআরবি লকডাউন থাকায় বিএসএমএমইউ, আইইডিসিআর কিংবা আর্মি প্যাথলজি ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা করে দেখার প্রস্তাব দিলেও তা মানা হয়নি। জাতির এ দুর্যোগের সময় এ কিট কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অথচ ইরানে প্রতিদিন এ ধরনের কিট ১০ লাখ তৈরি ও ব্যবহৃত হচ্ছে, আর সেখানে তারা কিট জমাই রাখেননি। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তারা ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনৈতিক কাজ করছে, দেশের ক্ষতি করছে। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রেখে চলেন, তাতে তাদের লেনদেনে সুবিধা হয়।

সৌজন্যে : আরটিভি অনলাইন।