মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অসহায়দের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন

11
আরিফুর রহমান সেতু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার
করোনা দূর্যোগে অসহায়ের সহায় হয়ে কাজ করে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিরা।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী   এই করোনা পরিস্থিতিতে যাতে অসহায় দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের অসুবিধা না হয় তার জন্য বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।  শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার এর সাথে আলাপনে তিনি সি আই এন টিভি ২৪ অনলাইনকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছি।  ইতিমধ্যেই  এই উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের  তাদের নিজস্ব এলাকায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়া  হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত উপজেলায় ৭ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।  তাদের মধ্যে  সিভিল সার্জন মুন্সীগঞ্জের পরামর্শ অনুযায়ী পাটাভোগ ইউনিয়নের সনাক্তকৃত রোগীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ছয়জনকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।  সনাক্তকৃত রোগীর পরিবারকে লকডাউন করে তাদের খাবারের জন্য ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৪৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য করোনা কালীন সময় বরাদ্দ এসেছে যা ১০,৪০০ পরিবারের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।  তালিকা হালনাগাদ করে ৩০,০০০ পরিবারে এই সহায়তা পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।  তাছাড়া জি আর চাল ৭,৭৬,০০০ টাকা এবং শিশু খাদ্য ১,৪০,০০০  টাকা বরাদ্দ এসেছে যা পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।  দুইটি ধাপে ১৪ টি ইউনিয়নের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ধাপেও ইতিমধ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে।  আজকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের ১৯২ টি পরিবারের মাঝে ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রান পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  সেখানে বাঘড়া ইউ পি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়ে সুষ্ঠুভাবে ত্রান বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
উপজেলার আরিয়াল বিল সহ বিভিন্ন স্থানে ধান কাটার ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই একটি কম্বাইন্ড হার্ভেষ্টার দিয়ে কাজ চলছে আরো ৮ টি কম্বাইন্ড হার্ভেষ্টার এর চাহিদা দেয়া হয়েছে হয়ত আগামী সপ্তাহ নাগাদ আমরা পেয়ে যাব।
শ্রীনগর উপজেলায় সরেজমিনে ঘুরে এসে দেখা যায় উপজেলার ৮ নং ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন শাহাদাৎ হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।  ঐ  ইউনিয়নে গত  বুধবার একজন করোনা ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়।  ইউ পি চেয়ারম্যান কোয়ারেন্টিনে যাবার পর ভয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সচিব, ইউ পি সদস্য ও গ্রাম পুলিশেরা। এই ভয়ের মধ্যেই নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই জনগনকে সেবা দিয়ে সরকারের সকল সহায়তা অসহায়দের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।   তাদের নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই লকডাউন এলাকায় ডিউটির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউ এন ও জানান, আপনারা সহ সকলেই জানেন যে এই করোনা সংকটে সব জায়গাতেই পি পি ই সংকট চলছে যার কারনে তাদেরকে দেয়া সম্ভব হয় নি।  আমরা পি পি ই এর জন্য মন্ত্রনালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি।  সরকার দিলে আমরা তাদের কাছে পৌঁছে দেব।
শ্রীনগর উপজেলা বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  এই করোনা যুদ্ধে সরকারের একার পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়।  আপনার আমার সকলের সমন্বিত প্রয়াসই পারে এই সমাজকে রক্ষা করতে, এই দেশকে রক্ষা করতে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সকলের ঘরে খাবার পৌঁছে যাবে কিন্ত দয়া করে আপনারা ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন।  সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অপ্রয়োজনে বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্ধকার শেষে আলো আসবেই।  আর যারা লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে বলতে পারছেন না তারা সরাসরি ৩৩৩ নাম্বারে কল করে জানাতে পারেন অথবা সরাসরি উপজেলা আমাদের ই-মেইলে জানাতে পারেন। ই-মেইল  rahima13may@gmail.com