করোনার ওষুধ আভিগানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

71

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনায় রয়েছে জাপানি ওষুধ আভিগান। গবেষকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ থেকে রোগিকে সুস্থ করে তুলতে দারুণ কার্যকর এ ওষুধ। সবার পূর্বে চীনা চিকিৎসকরা এ কথা জানান। তবে এবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে করোনার ওষুধ আভিগানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছেন। করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে জাপানী ওষুধ আভিগানের ক্লিনিকাল পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর তিনি এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করেন। এটি সত্যি হলে তা হতে যাচ্ছে পৃথিবীর জন্য বড় একটি খুশির সংবাদ।
গবেষনার ফলাফল থেকে জানা গেছে, ত্রিশ বছরের রোগীদের সাত দিনেই সুস্থ্য হওয়ার প্রমাণ মিলেছে আভিগান ব্যবহারের ফলে। তবে সন্তান সম্ভবা মহিলাদের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকায় তা প্রয়োগ করা হয়নি। আভিগানের জেনেরিক নাম ফাভিপিরাভি, এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম দুটি রাউণ্ডে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাসে এটি প্রথম প্রমাণিত চিকিৎসা হতে পারে, এমন প্রত্যাশায় জাপানে করোনা আক্রান্ত ১২০ জন রোগীর দেহে এটি পরিক্ষামূলক প্রয়োগের পর পাওয়া গেছে সফলতা।
গবেষকদের মতে, এটি কভিড-১৯ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের বিরুদ্ধেও অ্যান্টিভাইরাস প্রভাব ফেলতে পারে। জায়ান্ট ফুজিফিল্মের সহযোগী প্রতিষ্ঠান টোয়ামা এর রাসায়নিক শাখা ‘আভিগান’ ওষুধটি উৎপাদন করে। দেহে ফ্লুজাতীয় ভাইরাস প্রতিরোধে এই ওষুধটা আগে থেকেই জাপানে অনুমোদিত ছিল। চীনে করোনা চিকিৎসায়ও দারুণ কাজ করেছিল এই অ্যাভিগান।
জাপান দীর্ঘদিন ধরেই এই ওষুধটি নিয়ে গবেষনা চালিয়ে আসছিল। বর্তমান আরও ২০টি দেশে জাপানের অর্থ ও টেকনিকাল সহায়তায় অ্যাভিগান এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। করোনা চিকিৎসায় মানবিক সাহায্য হিসেবে বিনে পয়সায় জাপান আভিগান দেবার ঘোষণা দিয়েছে।
আরও কিছু পরীক্ষার পর জাপান করোনা চিকিৎসায় আভিগান ফলপ্রসূ ওষুধ বলে ঘোষণা দিলে বিশ্বব্যাপী যে চাহিদা সৃষ্টি হবে সেটা ভেবেই বানিজ্যিক উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য দেশগুলোতেও জাপান তা উৎপাদনের অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও উৎপাদিত হবে বলে জানা গেছে।