গৃহবন্দি অসহায় মানুষের পাশে ত্রান নিয়ে যাচ্ছে তহিদুর ও সেলিম

12

বদরুজ্জামান খোকা, জেলা প্রতিনিধি (সাতক্ষীরা)

ঘড়ির কাঁটা যখন দশটায় ৩৭ মিনিট। নিঝুম নিস্তব্ধ গ্রামের বাড়ি গুলো। কারণ করনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি অসহায় মানুষেরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে ছুটছে বাঁশদহার নিবেদিতপ্রাণ তৌহিদুর রহমান ও সেলিম উদ্দিন। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে আরো স্বেচ্ছাসেবক টিম। আলাউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, মিন্টু গান, প্রফেসর নাজমুল হোসেন। করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে রূপ নিচ্ছে ভয়ঙ্কর থেকে আরো ভয়ঙ্কর। প্রতিদিন বাড়ছে হাজার হাজার মানুষ। করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে কেউ ফিরছে স্বজনের কাছে নিজের বাড়িতে। আর কেউ এই পৃথিবী নামক স্থান থেকে চিরতরে বিদায় নিচ্ছে। এই করোনা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহবন্দী খেটে খাওয়া মানুষের দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তাই নিজ নিজ উদ্যোগে সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহার তহিদুর রহমান, কাজীপাড়া সেলিমউদ্দিন এই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ কোন সরকারি খাদ্য নয়, এ কোন প্রতিষ্ঠানের খাদ্য নয়, সমাজের ধনী মানুষের সামান্য সহযোগিতায় বেঁচে যাচ্ছে হাজার হাজার ঘর বন্দী মানুষ। আর সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনে স্বপথ গ্রহন করেছেন উদ্যোগী দুজন মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষ থেকে খাবার পেয়ে খুব উৎফুল্ল, শত্রু সিক্ত চোখে গৃহবন্ধি মানুষেরা আল্লাহর কাছে হাত তুলে বলেন, আপনারা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুন। আমাদের এই অসময়ে আপনারা আমাদের খাদ্য দিয়েছেন। আর এই খাদ্য খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। এসময় সমাজ সেবক তহিদুর রহমান ও সেলিমউদ্দিন বলেন আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের ডাল ভাত দিয়ে সামান্য মুখে হাসি ফোটানোর। আমরা এখানে দিয়েছি ৫ কেজি চাউল,১ কেজি আলু, হাফ কেজি সয়াবিন তেল, হাফ কেজি মুসুরির ডাল, আধা কেজি লবণ, একটি তিব্বত বল সাবান ও একটি মাক্স। যা কিনা সামান্য হলেও এই খেটে খাওয়া মানুষদের বাঁচিয়ে রাখবে। এমনই উদ্যোগী কাজের জন্য বাঁশদহা ইউনিয়নের সমস্ত শ্রেণীর মানুষেরা প্রশংসা করেছেন বাঁশদহার তহিদুর রহমান ও কাজীপাড়া সেলিমউদ্দিনকে।