অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ফুলতলার বিখ্যাত নূর ইসলামিয়ার মিষ্টি

639

মো. আল আমিন খাঁন।।

রাতারাতি ফুলতলা উপজেলা সহ আশেপাশে সর্বত্র নাম ডাক পড়ে যায় ফুলতলা কৃষি ব্যংকের পাশে অবস্থিত নূর ইসলামিয়া মিষ্টি ঘরের সু-খ্যাতি। প্রথম দিকে মিষ্টির মানও ছিল ভাল। ফলে অন্যান্য মিষ্টি ভান্ডার বা মিষ্টির দোকানে বিক্রির ভাটা পড়ে। একক ব্যবসা চালিয়ে যায় নূর ইসলামিয়া মিষ্টি ঘর। তবে বুধবার বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে খুলনার ফুলতলাস্থ দামোদর কলোনীপাড়া রোডের পাশে অবস্থিত সাইনবোর্ড বিহীন নূর ইসলামিয়া মিষ্টি কারখানায় গিয়ে  দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। অনেকটা বাইরের  থেকে ফিটফাট । তবে ভিতরে  সদরঘাট। স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এ মিষ্টি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। কর্মচারিদের হাত-পা ছিল  নোংরা।  মেঝোঁতে পড়ে ছিল ধূলবালি। যেখানে  সেখানে মিষ্টি ট্রেতে  খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। সন্দেশ প্রস্ততি হচ্ছিল। সেটিও ছিল নোংরাভাবে। এদিকে মিস্টির কড়াই ছিল  খোলা। ফলে যে কোন পোকা মাকড় অবাধে চলাফেরা করতে পারে। এক কথায় কোন প্রকার স্বাস্থ্যনীতি অনুসরন না করে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নানা বাহারি রকমের মিষ্টি।

সমগ্র দেশ যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত তখন ফুলতলার এ মিষ্টি কারখানাটি মানহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া কর্মচারিদের হাতে ছিল না  কোন হ্যান্ড গ্লাবস , মুখেও ছিল না  কোন মাস্ক। এ কারখানার কর্মচারিরাও করোনা  ঝুঁকির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা  জেলার সহকারি পরিচালক শিকদার শাহিনুর আলম বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও খাবার  ঢেকে পরিবেশন করা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিটি নিয়ম মেনে চলা এটা সব সময় উচিত। শুধুমাত্র এই মহামারির জন্য নয়। তিনি আরো বলেন সরেজমিনে নূর ইসলামিয়া মিষ্টির কারখানায় গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব।

মুঠোফোনে কথা ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ  শেখ কামাল হোসেন এর সাথে । তিনি বলেন বর্তমান অবস্থাতে কোন খাবারই আগলা রাখা উচিত নয় । তিনি আরো বলেন,  আমাদের স্যানেটারি কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি ওই কারখানার বিরুদ্ধে সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে।

ফুলতলা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ জমাদ্দার বলেন, আমরা আমাদের ফুলতলার  দোকানীদের বার বার করে স্বাস্থ্যনীতি সম্পর্কে সতর্ক করেছি। নূর ইসলামিয়া মিষ্টির  দোকানে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব।

নূর ইসলামিয়া মিষ্টির  দোকানের প্রোপাইটর মো. হালিম গাজী নিজেও তার কারখানায় মিষ্টি খোলা অবস্থায় রাখার বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি জানান,শুধু বর্তমান সময় নয়, প্রতিটি সময় উচিত খাবার ঢেকে রাখা।