বিদায় মাশরাফি

94

ক্যারিয়ারের বাউন্ডারি লাইনের দাঁড়িয়ে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এখান থেকেও শেষ বলার অপেক্ষা দেশের ইতিহাসের সেরা অধিনায়কের। বৃহস্পতিবার অধিনায়কত্বের প্রদীপটাও নিভিয়ে দিলেন।
শুক্রবার সিলেটের পুণ্যভূমিতে ইতি টানবেন দীর্ঘ ছয় বছরের অধিনায়ক ক্যারিয়ারের দায়িত্বের। ইতি টানার ঘোষণাটা হুট হাট করেই দিয়ে দিলেন তিনি।

রাতভর ভেবেছেন, ঘুমিয়েছেনও দেরিতে। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার আগের দিন পরিবারের সঙ্গে অবসর নিয়ে কথা বললেও এবারের সিদ্ধান্তটা একাই নিয়েছেন। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসার ঘণ্টা খানিক আগেই জানিয়েছেন পরিবারকে।  দীর্ঘ সময় ধরে অধিনায়ক মাশরাফির উপর আস্থা রাখায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি), সতীর্থ, কোচদের, নির্বাচক এবং সমর্থকদের। ‘কালকে আমার শেষ ম্যাচ, অধিনায়ক হিসেবে। আমার প্রতি এতো দীর্ঘ সময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই আমার সঙ্গে যতো ক্রিকেটার খেলেছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত প্রক্রিয়াটা এতো সহজ ছিল না, শেষ পাঁচ-ছয় বছরের যেই সফর ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই, টিম ম্যানেজমেন্ট যারা ছিল, যাদের অধীনে আমি অধিনায়কত্ব করেছি। তারা সবাই আমাদের কাছে থেকে সহযোগিতা করেছে।  চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দিয়ে শুরু হয়েছিল, তার আগে পেয়েছিলেন অধিনায়কত্ব। কিন্তু চোটের কারণে করতে পারিনি। কিন্তু মূলত শুরু হয় হাথুরুসিংহে দিয়ে। খালেদ মাহমুদ, স্টিভ রোডস ও রাসেল ডমিঙ্গো দিয়ে শেষ হচ্ছে।  ‘নির্বাচক, কর্মকর্তা যারা আছেন, প্রত্যেক বোর্ড কর্মকর্তা থেকে শুরু করে যারাই ক্রিকেট বোর্ডে আছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই সহযোগিতার জন্য। আমি ধন্যবাদ জানাই আপনারা যারা আছেন, মিডিয়ার। অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন। সবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থক যারা আছেন, আপনারা ক্রিকেটের প্রাণ। আপনাদের সমর্থন ছাড়া এতো দূর আসা সম্ভব ছিল না। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ অবশ্যই আমার অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই চেষ্টা করব আমার সেরাটা দেওয়ার। যদি সুযোগ আসে আমার। এবং আমার শুভকামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশ দলকে পরের ধাপে নিয়ে যাবে। এবং যদি আমি দলে থাকি আমার যে অভিজ্ঞতা থাকে, আমার ভেতরে যতটুকু আছে, ততটুকু দেওয়ার। ধন্যবাদ সবাইকে।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের পর একজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবেই খেলবেন যদি নির্বাচকরা মনে করেন, মাশরাফি খেলার জন্য যোগ্য। ২০১৪ থেকে দলের নিয়মিত অধিনায়ক হয়ে ৮০টি একদিনের ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন ৪৬টি ম্যাচ। মোট ৮৭ ম্যাচে তার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ ৪৯টি ওয়ানডে ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে তার নেতৃত্বে খেলে বাংলাদেশ। এরপর ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় সেমি-ফাইনালে। মাশরাফির অধিনায়কত্বেই ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজে হারাতে সক্ষম হয় টাইগাররা।