বঙ্গবন্ধু নৌকা এসে খুলনার স্টীমার ঘাটে নামেন

124
।।মোঃ আল আমিন খান, ব্যুরো চিফ খুলনা।।
বঙ্গবন্ধু নৌকা এসে খুলনার স্টীমার ঘাটে নামেন। স্টীমার ঘাটের পূর্ব পাশে অনেকগুলো আড়তের মালিক পাটগাতি ও ঘোনার অধিবাসীরা। স্টীমার ঘাটে নামার পর আড়তদারদের মধ্যে দু-একজন তাকে চিনতে পারেন। সকাল শেষে বেলা উঠলে পাটগাতি ও ঘোনার অধিবাসী বড় বাজারের কর্মরত কুলি ও রিকশাওয়ালারা তাকে ঘিরে ধরে। সেদিনও তার আদর আপ্যায়নের ঘাটতি হয়নি। তিনি দিনভর আড়তেই অবস্থান করেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খুলনা সম্পর্কে ধারণা নেন। খুলনায় তখনও ইংরেজদের আধিপত্য। শেখ পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় অনেকেই ভাইজান আবার কেউ মিয়াভাই বলে ডাকতেন। বয়ো জ্যেষ্ঠরা শেখ সাহেব বলতেন। গোপালগঞ্জ মিশনারি হাইস্কুলে পড়ার সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চারিদিকে খ্যাতি অর্জন করেন। দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে তার পরিচিতি ছিল এ অঞ্চলের সর্বত্র। তাছাড়া অসহায় মানুষকে ধান-চাল ও শীতের কাপড় দিয়ে কিশোর বয়সেই তিনি পরিচিতি পান।
গোপালগঞ্জ মহাকুমার টুঙ্গিপাড়ার সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৪২ সালে এন্ট্রাস (এসএসসি) পাস করেন। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তখন কোন কলেজ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে লেখাপড়া করবেন। সে উদ্দেশ্যে স্যুটকেসে জামা-কাপড় নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন, নৌপথে। টুঙ্গিপাড়া থেকে খুলনার সড়ক পথে দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। তখন সড়ক যোগাযোগ ছিল না। নৌপথে খুলনায় আসতে ২০ ঘন্টারও বেশি সময় লাগতো। টুঙ্গিপাড়া সংলগ্ন পাটগাতি লঞ্চঘাট থেকে বিকেলে নৌকা ছাড়লে সকালে এসে পৌঁছাতো খুলনায়। তখন যন্ত্রচালিত নৌকা বা ট্রলারের আবির্ভাব হয়নি। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের আন্দোলনের ঢেউ সর্বত্র। খুলনার আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করলেন। আড়তদারদের সহযোগিতায় সন্ধ্যার ট্রেনে খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী’ অনুযায়ী এটাই প্রথম খুলনা সফর ছিলো জাতীর পিতার।