৩৮ বছর পর স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বাধা হলো ফতোয়া, সমাধান করলেন চেয়ারম্যান

109
আরিফুর রহমান সেতু/ রনি মজুমদার
নওগাঁর সাপাহারে সীমান্তবর্তী এলাকার  দক্ষিণ আলাদীপুর গ্রামে নিখোঁজের ৩৮ বছর পর বাসায় ফেরা এক ব্যক্তির পরিবারে আনন্দের বন্যা বইলেও স্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারছেন না গ্রাম্য ফতোয়ার কারণে। পরবর্তীতে গোয়ালা ইউ পি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান এর হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
৩৮ বছর পর ফিরে আসা নুরুজ্জামানের পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত বাঘ রাজ্জাক এর ছেলে তখনকার দিনে টগবগে যুবক নুরুজ্জামান বর্তমান (৬০) ১৯৮২ সালে পারিবারিক  দ্বন্দ্বের কারণে বাবার ওপর রাগ করে স্ত্রী ও সন্তান রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এর পরে তার পরিবারের লোকজনেরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে হাল ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজনের ধারণা সে হয়তো ভারতে গেছে অথবা মারা গেছে। এই ধারণা নিয়ে নুরুজ্জামানের স্ত্রী আরিফন বিবি সে সময় তার গর্ভের সন্তানসহ নাবালক দুই ছেলেকে নিয়ে উপজেলার কৃষ্ণসদা গ্রামে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং এখন পর্যন্ত কোনো দ্বিতীয় বিয়ে না করেই সেখানে সন্তানদের নিয়ে বাবার সংসারে বসবাস করে আসে। তার সন্তানরা বড় হয় এবং বিয়ে করে মাকে নিয়ে সংসার করতে থাকে। এমনি অবস্থায় গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে নিরুদ্দেশ হওয়া নুরুজ্জামানের আগমন ঘটে তার বাবার বাসা দক্ষিণ আলাদিপুর গ্রামে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গ্রামে ফিরে আসায় নুরুজ্জামানকে নিয়ে গ্রামে বেশ হইচই পড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে নানা বাড়ি থাকা তার ছেলেরা ছুটে চলে আসে বাবাকে একনজর দেখার জন্য। মুহূর্তে সেখানে বাবা-ছেলের মধ্যে ঘটে এক মিলনমেলা। এই দৃশ্য দেখার জন্য শত শত মানুষ সেখানে ছুটে আসে।কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ইচ্ছে থাকলেও গ্রাম্য মাতব্বরদের ফতোয়ার কারণে একে অপরের সাথে এখনও সাক্ষাৎ কিংবা দেখা করতে পারেনি তারা। গ্রামের লোকজন বলছে কেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ১২ বছর সম্পর্ক না থাকলে সে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। এখন তারা আর স্বামী-স্ত্রী নয়। এ কথার ওপর ভিত্তি করে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে দেখা কিংবা কথা বরতে দেওয়া হয়নি।
নুরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সে সময় তিনি তার বাবার ওপর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল এর পর সে দীর্ঘদিন রংপুর শহরে থেকে জীবনযাপন করতে থাকে এবং ১৯৮৫ সালের দিকে আর বাসায় ফিরবে না প্রতিজ্ঞা করে সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন করে সংসার পাতে। এরই মধ্যে সেখানে তার সে সংসারে ৩টি ছেলের জন্ম হয়। এর মধ্যে নিজ বাসায় ফিরতে তার ইচ্ছে হলেও বিভিন্ন কারণে তার আসা হয়নি। এখন তিনি দুটি সংসারই রেখে নতুন করে আগের সংসারের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়।
গোয়ালা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে বিষয়টি নিয়ে cintv24 এর প্রতিনিধিদের কাছে বলেন, এ বিষয়ে আমরা জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সমাধান করা হয়। তিন যুগ পর বাড়ি ফেরার কারনে অনেকেই তাকে দেখতে  উৎসাহী হবার পর তারা বিভিন্ন ভাবে একেকজন মন্তব্য করতে থাকে এবং যার দরুন একটি মিথ্যা ফতোয়ার কথা তুলে। কিন্তু কে বা কারা এই কথা বলেছে সে বিষয়ে জানা যায়নি। এখন সেই ব্যক্তি তার বাড়িতে সুস্থ এবং নিরাপদে তার পরিবারের সাথে আছে। নুরুজ্জামান তার স্ত্রীর সাথেই এখন আছেন।