চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্ব ঐতিহ্য পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার

116
আরিফুর রহমান সেতু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত পাহাড়পুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের উত্তর জনপদ নওগাঁ জেলার বদলগাছি  উপজেলায় অবস্থিত।  বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে আপনাকে আসতে হবে নওগাঁ জেলায়।  সেখান থেকে ৩২ কি মি দুরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি।
এখানে প্রধান ফটকে টিকিট কেটে প্রবেশের পরেই দেখতে পাবেন প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর। নরওয়ে সরকারের অনুদানে ১৯৯৩ সালে এই জাদুঘর ভবন নির্মিত হয়।  সেখানে আপনি দেখতে পাবেন সোমপুর বিহারের মডেল, বিভিন্ন পুরনো পাথরের মুর্তি ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন নিদর্শন।  তারপর জাদুঘর দেখা শেষে সামনে আপনাকে অভিবাদন করার জন্য রয়েছে একটি চমৎকার বাগান যার সৌন্দর্য দেখে মুহুর্তেই বিমোহিত হয়ে যাবেন। সেখান থেকে আপনার চোখে পরবে সেই সোমপুর বিহারের চূড়া।  তারপরেই আপনি দেখতে পাবেন সেই মঠের সীমানা প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ। সেই অংশটুকু পার হলেই দেখতে পাবেন ছোট ছোট চার কোনাকৃতি খুপরি ঘরের দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ। এখানে মোট চারটি বাহুতে ১৭৭ টি কক্ষ ছিল যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকত।  প্রতিটি বাহুর মধ্যস্থলে পৃথকভাবে তৈরী কক্ষ বাদে বিহারের চারটি বাহুতে এই ১৭৭ টি কক্ষ অবস্থিত।  প্রতিটি কক্ষের আভ্যন্তরীণ পরিমাপ ৪. ২৬ মিটার * ৪.১১ মিটার। শেষযুগে এসে ৯২ টি কক্ষে অলংকৃত বেদী নির্মান করা হয়।  প্রথামবস্থায় সবগুলো কক্ষ ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হত।
এরপরেই সামনে পরবে সেই সুউচ্চ কেন্দ্রীয় মন্দির যা দেখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে জানার জন্য ছুটে আসেন। আগে মন্দিরের উপর উঠা গেলেও এখন উপরে উঠার সিড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াতে নিচ থেকেই দেখতে হবে এর সৌন্দর্য।  কল্পনার রাজ্যে হয়তোবা আপনার সামনে ভেসে উঠবে পাল রাজাদের ইতিহাস।  খনন কার্যের সময় পাওয়া গুটিকা থেকে জানা যায়, এই বিহারের প্রকৃত নাম সোমপুর যার অর্থ চাদেঁর নগরী এবং মহাবিহার মানে বৃহৎ মঠ। এই মঠের নির্মাতা হলেন রাজা ধর্মপাল (আনুমানিক ৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দ)। বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত পাহাড়পুর মহাবিহার বিভিন্ন কারনে সার্বজনীন গুরুত্ব বহন করে। এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম যা পাল রাজবংশের কয়েক শতাব্দীর আর্থ-সামাজিক,  রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে বিবৃত করে। বিপুল আয়তনের এই স্থাপনার চারিদিকে ভিক্ষু কক্ষ,  বিস্তৃত প্রবেশ পথ, নিবেদন স্তুপ, ছোট ছোট মন্দির ও বিভিন্ন নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সুউচ্চ এই মন্দিরের স্থাপত্য দক্ষিন – পূর্ব এশিয়ার বিশেষ করে মায়ানমার ও জাভার মন্দির স্থাপত্যকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছে।
তো আর দেরী কেন? ঘুরে আসুন  সপরিবারে আর চাক্ষুস অবলোকন করে  আসুন ঐতিহাসিক এই পাহাড়পুর মহাবিহার থেকে।