অভয়নগরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা বেকায়দায়

217

যশোর অভয়নগরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা এখন বেকায়দায়  

ক্রাইম রিপোর্টার,যশোর
যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন বাসুয়াড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জলিল ও এ এস আই আইনাল এর  বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আই জিপি ও উপ – মহাপুলিশ পরিদর্শক,খুলনা রেঞ্জ বরাবর অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানা যায়।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়,যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন বাসুয়াড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জলিল ও এ এস আই আইনালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে দুই ভূক্তভোগী বেকায়দায় পড়েছেন। তারা হলেন, শুভরাড়া গ্রামের নাসির শেখের স্ত্রী নাহার বেগম (৩৮) ও একই গ্রামের মৃত বিজয় দাসের ছেলে উজ্জল দাস( ৪২)।
ভূক্তভোগী জানান,বিগত ২৪ ডিসেম্বর ‘১৯ সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জলিল ও এ এস আই আইনাল এসে বলেন, উজ্জলের সাথে কী হয়েছে? প্রতি উত্তরে নাহার বেগম বলেন, হালখাতার চিঠি দিতে আসছিলেন। এরপর আপত্তিকর কথা বলতেই থাকেন। এ সময় গৃহে থাকা আমার ছেলে মিসকাত অনার্স পড়ুয়া ছাত্র বলে,আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আছে কিনা ? কে আপনাদের তথ্য দিয়েছেন ? এ কথা বলার পর অনার্স পড়ুয়াকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা সহ হূমকি – ধামকী দিয়ে চলে যান।
অপর ভূক্তভোগী জানান, একই দিনে ১২টার দিকে শুভরাড়া বাবুর হাটে স্বনামধন্য সার ও কীটনাশক  দোকান ব্যবসায়ী উজ্জল দাসের সাথে বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই আইনাল তার দোকানে এসে বলেন, তুমি গতকাল শুভরাড়া গ্রামের নাসির শেখের বাড়ি কী জন্য গিয়েছিলে ? প্রতি উত্তরে উজ্জ্বলও  জানায়, হালখাতার চিঠি দিতে গিয়েছিলাম। ঐ সময় এ এস আই আইনালএক প্যাকেট ব্যনসন সিগারেট এনে দিতে বলেন। টাকা দিয়ে সিগারেট আনিয়ে দেয়। এরপর উজ্জলকে বিভিন্ন হুমকি –  ধামকী ভয় – ভীতি দিয়ে তার  দোকানের ক্যাশ থেকে জোর পৃর্বক ক্যাশে থাকা নগদ ১০,০০০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর ক্যাম্প ইনচার্জ জলিলকে ডেকে এনে উভয়ে প্রতিষ্ঠানের পাশে সলা – পরামর্শ করে দোকানে এসে বলেন, ১০,০০০ টাকার বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়। প্রকাশ করলে কমপক্ষে ৮ – ১০টি বিভিন্ন মামলা অবৈধ অস্ত্র,মাদক জাতীয় দ্রব্য ও খুনের মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠাবেন বলে হুমকি – ধামকী দিয়ে যান।
শুভরাড়া গ্রামের ঐ দিনের ঘটনার কয়েকজন  প্রত্যক্ষদর্শী জানায়,কুটী মীরের ছেলে অবসর প্রাপ্ত সৈনিক সোবাহান, এলাহী মোল্যার ছেলে ফিরোজ ও হুমায়ুন মোল্যা,এবং আজগারের ছেলে মুসা গাজীও ঘটনা অকপটে সত্যতা স্বীকার করেন ও বলেন, আমরাও সেদিন প্রতিবাদ করেছিলাম আপনি একজনের ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের ক্যাশের থেকে টাকা নিতে পারেন না। চাপের মুখে বলেন,ক্যাশের ড্রয়ার আমি টেনেছি টাকার বিষয়ে সুকৌশলে এড়িয়ে যান। উজ্জ্বলের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করছে কিনা বলেন না। কে পাঠিয়েছেন আপনাদের? অভিযোগ ছাড়া কাউকে এভাবে  চার্জ করতে পারেন না। আমিও সৈনিক  ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করে আসছি। উজ্জ্বল ভালো ছেলে বলেই মিথ্যার আশ্রয় নেয়নি যা ঘটেছে সব সত্য কথাই বলেছেন। অন্য কেউ হলে এর  চেয়ে বেশি টাকা বলতেন। ঐ সময়ে বাজারের প্রায় শতাধিকের উর্ধে লোকজন জড়ো হলে প্রতিবাদের মুখে
ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান।
এলাকাবাসী আরো জানায়, বাসুয়াড়ি ক্যাম্পে এস জলিল ও এ এস আইনাল যোগদানের পর থেকে এলাকায় অবৈধ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করে হাজার হাজার টাকা লুটপাট করে। অনুরুপ আরও দুই ভূক্তভোগী যশোর সার্কেল এসপি বরাবর অভিযোগ করেছেন। তারা হলেন, ভূগিলহাট গ্রামের কালাম ও বাসুয়াড়ি স্কুলের শিক্ষক মকবুল। ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই জলিল ও এস আই আইনাল যোগদান করার পর থেকে বাসুয়াড়ি গ্রামের হালিম সর্দারের ছেলে নাদেরের নিকট থেকে একটি বিদেশি টাচ মোবাইল ফোন নেয়। তিনদিন পর মোবাইল দিয়ে দেন। ঐ এলাকার দোকানদার নুর ইসলামের সাথে বসার চেয়ার নিয়ে অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একই এলাকার হতদরিদ্র নাসির ওরফে কেরেকের মোটর সাইকেল আটকিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেন। একই এলাকার রোস্তম সর্দার (৭০) ও তার অসুস্থ ছেলে কামরুলকে বিনা কারনে মারপিটের ঘটনা,গাজা সেবনকারী বলে এক যূবকে ধরে এনে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া। সিকিরঘাট এলাকায়   লালন কাজির জুয়ার বোর্ডে হানা দিয়ে নগদ টাকা ও ৯ জনকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগের বিষয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জলিল ও এ এস আই আইনালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সকল অভিযোগ উভয়ই অস্বীকার করেন। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।
ভূক্তভোগীরা জানান,বিভিন্ন লোকজন দিয়ে একের পর এক বাড়ি মিমাংসার জন্য লোক পাঠাচ্ছেনপরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। তাদেরকে রক্ষা করার জন্য সমাজের বিজ্ঞ মহল প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।