বদলে গেছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র

412

পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন , নতুনকরে ৮কোটি টাকা মূল্যের এমআরআই মেশিন আনা হয়েছে। টেকনিশিয়ান তৈরির পর এই মেশিনটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

আবু হামজা বাঁধন, ডেক্স রিপোর্ট।

জানাযায়, রাজস্ব আয় বেড়েছে। আউটসোসিং এর মাধ্যমে জনবল সৃষ্টি, চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি, আমুল পরিবর্তন, প্রতারক চক্র অনেকটা দমন, ইনজুরি সার্টিফিকেট বাণিজ্য সম্পূর্নভাবে বন্ধ হয়েছে। যেখানেই অনিয়ম ,সেখানেই প্রতিরোধ । এক কথায় বলা যায়, স্বাস্থ্য নীতির মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের জমে থাকা স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা আবর্জনা ধুয়ে মুছে ফেলে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে হাসপাতালটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েছে। তাছাড়া সময়মত সংশ্লিষ্ট সকলকে কর্মস্থলে আসতে হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাপাতালের ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন বিগত দিনে লক্ষ্য করা যায়নি।
এক সময় দালালের দৌরত্ম, অনিয়ম দূর্নীতির বিষাক্ত ছোঁবলে হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবাসহ সকল কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ে। কিছু অসৎ ব্যক্তি বিশেষের কারণে বৃহত্তর এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কলঙ্কের ছাঁপ লাগে। যেমন, ঔষধ চুরি, মানহীন খাবার পরিবেশন, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, দালাল চক্রের অভয়ারণ্য, রোগি ভাগিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চলতে থাকে। ঠিক এমনই এক দুঃসময়ে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ডাঃ মঞ্জর মোর্শেদ। তাঁর সৎ সাহসি দূরদর্শী নিরন্তর প্রচেষ্টায় ঘুনে ধরা হাসপাতালটির পরিবর্তন এসেছে। ঔষধ চোর, খাবার চোর, সার্টিফিকেট বাণিজ্য সহ বিভিন্ন প্রতারক সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
সরকারি এ হাসপাতালটি রক্ষনা-বেক্ষনের স্বার্থে ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ নিজের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ অনেকটা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে কয়েকটি সিন্ডিকেটের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা তাদের অবৈধ দাবি ও সুবিধা আদায় করতে না পেরে পরিচালক ডাঃ মঞ্জর মোর্শেদের নামে ভূঁয়া অভিযোগ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েও ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং তার নামে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার রটানো হচ্ছে। ওই চক্রটি চায় হাসপাতালটিকে পুঁজি করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করতে।

হাসপাতালটির সুষ্ঠ গতিধারা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদের বিকল্প নেই এমন মন্তব্য স্থানীয়দের। উল্লেখ্য, জনগনের কাঙ্খিত সেবা বাস্তবায়নের জন্য ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ অনেকটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রমের কারণে বদলে গেছে হাসপাতালের সার্বিক চিত্র। মুছে গেছে অতীতের গ্লানি । তিনি পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকে আমুল পরিবর্তন এসেছে। ডাঃ মোর্শেদের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে নজিরবিহীন উন্নতি হয়েছে । যেমন, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় সহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট চালু করা হয়েছে। যারমধ্যে ৬ষ্ঠ তলায় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট ও শিশু সার্জারি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এক সময় এই ৬ষ্ঠ তলায় মাদক সেবিদের নিরাপদ আখঁড়া ছিল। ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদের ঐকান্তিক প্রচেস্টায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে এই ইউনিট দু’টি স্বচারু রুপে চলছে।

হাসপালটিতে পূর্বে ৩টি অপারেশন থিয়েটর ছিল, নতুন করে আরও ৩টি অপারেশন থিয়েটর চালু করা হয়েছে। রোগিদের মাঝে শতকরা ৮০ভাগ ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভর্তি রোগিদের প্রতিদিনের খাবারের মান অনেক উন্নত করা হয়েছে। তাছাড়া প্যাথলজী বিভাগ ১৩ ঘন্টা খোলা থাকছে। প্রয়োজনীয় বিভাগে সার্বক্ষনিক অক্সিজেন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মুমুর্ষ রোগিদের জন্য বাইরের থেকে অক্সিজেন ভাড়া করে আনতে হতো। ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারিভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সফলতার পিছনে মঞ্জুর মোর্শেদ এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তিনি যোগদানের মাত্র ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পুরো হাসপাতালের চেহারা পাল্টিয়ে ফেলেছেন। বিগত দিনের বদনামের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন সফলতার রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন । লোভ লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। চ্যালেঞ্জিং মোকাবেলায় সবাইকে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন সৎ যোগ্য নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। তথ্যমতে জানাযায়, দীর্ঘকাল পর হলেও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ কোটি টাকা মূল্যের এমআরআই মেশিন আনা হয়েছে। মেশিনটি অপারেট করার জন্য কয়েকজনকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ মেশিনটির কার্যক্রম শুরু হবে এমনটি আশা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ৫০০বেডের হাসপাতালটিতে ২৮২জন চিকিৎসকের স্থলে ১১৩ জন চিকিৎসক, নার্সিং জনবল ৩৮৫ জনের স্থলে ৩৭৫ জন কর্মরত রয়েছে। এদিকে তৃতীয় শ্রেনীর ৩৪ জন ও চতুর্থ শ্রেনীর ১০৯ জন কর্মচারি নিয়মিত রয়েছে। নতুনকরে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে ২০৭জন ও বর্তমান আরও ৯৫ জনকে আউটসোসিং এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ২২টি খাতে রাজস্ব আয় ছিল ২কোটি ৯৯লাখ ৪৬ হাজার ৪৬০ টাকা। যা বিগত অর্থবছর থেকেও রাজস্ব আয়ের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, সেবা প্রত্যাশীদের চাহিদানুযায়ি ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে স্থায়ী জনবল সৃষ্টি করার পাশাপাশি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদানুযায়ি অর্থ বরাদ্দ হলে অবকাঠামো উন্নতিসহ সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

এ ব্যাপারে কথা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মঞ্জর মোর্শেদের সাথে। তিনি জানান, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাস্থ্য বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার মান এগিয়ে চলছে। সকলের সমন্বয়ে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতের সকল বদনামের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে হাসপাতালটিকে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগত রোগিদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচারণ করতে হবে। সর্বস্তরের জনগনের বাস্তব সম্মত সময়োচিত সাহসী পদক্ষেপের কারণে বৃহত্তর এ হাসপাতালটি সর্বদিক থেকে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁিছয়েছে।