বছরে তিন উৎসবকে সামনে রেখে ঝিককরগাছা গদখালি ফুলের বাজার এখন জমজমাট

126

বছরে তিন উৎসবকে সামনে রেখে গদখালি ফুলের বাজার এখন ‌যশোহরে তিন উৎসবকে সামনে রেখে গদখালি ফুলের বাজার এখন জমজমাট

উৎপল ঘোষ(ক্রাইম রিপোর্টার )যশোর

যশোহর জেলায় ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ফুলের বাজার তিন উৎসবকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও আনন্দে ভাসে ফুলের রাজ্যের চাষীরা। সারা বছর ফুল বিক্রি হলেও ১৩ ফেব্রুয়ারি, বসন্ত বরণ উৎসব ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে আর ২১ ফেব্রুয়ারি,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে ওঠে এই রাজ্যের ফুলের বাজার। এবারও সেই আনন্দ আর উৎসবের জন্য এই রাজ্যের উৎপাদনসহ বিক্রি বেড়ে যায়। দেশের দক্ষিণঞ্চলের অনেক জেলা ও উপজেলা থেকে এই বাজারে ফুল ক্রয় করতে আসেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে জানান ফুল চাষীরা। ফুল চাষি করিম জানান, এ তিন উৎসবে বিক্রি প্রায় ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।
‌প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চাষি পাইকারিদের কাছে মুখর হয়ে ওঠে ফুলের স্বর্গরাজ্য হিসাবে পরিচিত গদখালি এই বাজারটি। দূর – দুরান্ত থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখানে ফুল ক্রয় করতে আসেন। উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় অতি সহজেই এখানে এসে ফুল ক্রয় করে তাদের গন্তব্য স্থানে সহজে ফিরে যেতে পারে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুল পাঠানো হয়। ফুল চাষী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, এ বছর গোলাপে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা গেছে। ক্ষেতে এক চতুর্থাংশ দেখা গেছে। ফুল চাষিদের নিয়ে আমি পরামর্শ করেছি। খুব ন্দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি। চাষীদের বলেছি এ বছর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অন্যান্য ফুলের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন,অন্য ফুলে কোন সমস্যা নেই। ফুলের চাষের বিঘা প্রতি ব্যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিঘা প্রতি গোলাপ আবাদে প্রথম বছর ব্যয় হয় প্রায় আশি হাজার টাকা। এরপর প্রতি বছর খরচ হয় প্রায় পয়ত্রিশ হাজার টাকা। প্রতি বছর প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি সম্ভব। ঝিকরগাছা উপজেলা গদখালিতে এ বছর প্রায় ৬২৬ হেক্টর জমিতে গড়ে ছয় হাজার চাষী ফূল চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ। ২০১৯ – ২০ অর্থ বছরে ২৭২ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, ১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা,১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা, ২২ হেক্টর জমিতে জারবেশ এবং অন্যান্য ফুল চাষ করা হয়েছে ৫৬ হেক্টর জমিতে। হরেক রকমের ফুলের চাষ এখানে হয়। বাজারে জারবেরার ষ্টিক বিক্রি হচ্ছে ৮- ১০ টাকা, রজনী গন্ধা২ – ৩ টাকা, গোলাপ রং ভেদে ৪ – ৮ টাকা, গ্লাডিওলাস ৪ – ৮ টাকা,আর এক হাজার গাঁদা মিলছে ২০০ – ৩৫০ টাকায়। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি ঝিকরগাছা গদখালি ফুলচাষি আব্দুল রহিম জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।