ফুলতলায় আরএমও ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশে প্রতিবাদ

71

গত ২৬ জানুয়ারী খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত আরএমও ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের কক্ষে রোগির ভীড় থাকে বেশি। তাছাড়া টিকিট কাউন্টারে আগে থেকে বলে দেয়া হয় যেন অধিকাংশ রোগি তাঁর কক্ষে পাঠানো হয়। আর ওই কক্ষে সরকারি চেয়ার দখল করে বসে থাকেন একজন বহিরাগত নারী। এছাড়া ফুলতলার একটি বে-সরকারি হাসপাতাল ও খুলনার বাবু খান রোডে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগি পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার সাথে বিরোধ ও নাজেহাল ঘটনার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ ছাড়া অন্যকোন কোম্পানির ঔষধ লেখা হয়না, তেমনি একাধিক এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিয়ে রোগিকে আরো বিপদগামীতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোগির ইচ্ছানুযায়ি তাদের পছন্দমত চিকিৎসকের কাছে সেবা নিবে এটাই নিয়ম কিন্তু টিকিট কাউন্টারে এমন কোন নির্দেশনা আগে ছিল না। এমনকি বহিরাগত নারীর বিষয় যা লেখা হয়েছে মূলত তিনি একজন ইন্টার্নি স্যাকমো । মূলত: তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য আমার কাছে আসতেন । অন্যদিকে বে-সরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগি পাঠানো বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেটা রোগির একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে বেশিরভাগ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আমি পরামর্শ দিতাম । অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই বরং সু-সম্পর্ক রয়েছে। আগত সেবা প্রত্যাশীদের দরকারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যে ঔষধ প্রয়োজন সেটাই প্রেসক্রিপশন করে দেওয়া হয়। প্রকৃত চিকিৎসক কখনও কোন রোগিকে বিপদগামী করে না। তাছাড়া টিএইচও’র বিরুদ্ধে কে বা কারা অভিযোগ করেছেন, সে সম্পর্কে আমি অবগত নই। হাসপাতালে অপারশেন বন্ধের বিষয় টিএইচও’র নিজস্ব বিষয়।
উক্ত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয় । আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফুলতলা, খুলনায় যোগদানের পর থেকে স্বাস্থ্য নীতি অনুসরন করেই এ পর্যন্ত চলে আসছি। বিশেষ করে হাসপাতালটিতে ডাক্তারসহ জনবল সংকটের মধ্যে দীর্ঘদিন সীমাহিন পরিশ্রম করে আসছি । বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগির চিকিৎসার দায়ভার আমার পরেই বর্তায় কেন না হাসপাতালটিতে দীর্ঘ দিন ডাক্তার পর্যাপ্ত না থাকার ফলে রোগির চাপ সামলাতে আমাকে হিমশিম খেতে হতো। তারপরেও মানবিক কারণে আমি আমার স্বীয় কাজে কখনও অবেহলা করেনি। পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা আদৌ সঠিক নয়। মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত যা সংবাদপত্রের নীতিমালা লঙ্ঘনের সামিল। এমনকি মানবাধিকার খর্ব করে আমার বিরুদ্ধে অহেতুক সংবাদ প্রকাশ করে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান
আরএমও
উপেজলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্স, ফুলতলা-খুলনা।