সাংবাদিকের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস : কেসিসি মেয়র

132
মোঃ আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো 
রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত মহানগরীর জোড়া গেট এলাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান সাংবাদিকরা। পরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেন সাংবাদিকরা। একাত্তর টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান রকিব উদ্দিন পান্নু হামলার শিকার হয়েছেন। খুলনা ওয়াসার কাজের গাফিলতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ওয়াসার ঠিকাদার ও পুলিশী হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এসময় হামলাকারীরা টেলিভিশনের ক্যামেরাও ভাংচুর করে। এ বিষয়ে সাংবাদিক রকিব উদ্দিন পান্নু বলেন, জোড়াগেট এলাকায় ওয়াসার পাইপ লিকেজ হয়ে পানি বের হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে মোবাইলে ওই চিত্র ধারণ করছিলাম। এ সময় কর্মরত খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের চায়না প্রকৌশলী আকষ্মিকভাবে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তখন আমি ওই কর্মকর্তাদের নিজেকে বার বার সাংবাদিক বলে পরিচয় দিলেও তারা থামেনি। আমি বার বার বলি স্টপ প্লিজ আই এম জার্নালিষ্ট। এক পর্যায়ে ৭১ টিভির ক্যামেরাম্যান আরিফুর রহমান সোহেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তারা ক্যামেরা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল বাশার এসে ওয়াসার পক্ষ থেকে উল্টো হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আমাকেই থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় পান্নুকে রক্ষা করতে গেলে ৭১ টিভির ক্যামেরাম্যান আরিফুর রহমান সোহেলের উপরেও হামলা চালায় ঠিকাদারের লোক ও পুলিশ। হামলাকারীরা ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরাও ভাংচুর করে। খবর পেয়ে কেএমপির ট্রাফিক পরিদর্শক শহর ও যানবাহন রেজাউল বাশার ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওই কর্মকর্তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক পান্নুর হাতে হাতকড়া পড়ান। পরে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। খুলনা সিটি মেয়র এসময় দোষী পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। সাংবাদিকের উপর হামলার খবর পেয়ে খুলনার প্রায় সব সাংবাদিকরা জোড়গেটে গিয়ে বিচারের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা, সাবেক সভাপতি এসএম হাবিব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদুজ্জামান সম্রাট, দৈনিক প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার, দৈনিক সময়ের খবরের সম্পাদক তরিকুল ইসলাম,দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আনিসুজ্জামান, মুন্সী আবু তৈয়ব, হাসান আহমেদ মোল্লাসহ শতাধিক সাংবাদিক।
পরে খবর পেয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ঘটনাস্থালে পৌছে হামলার জন্য দায়ী পুলিশ পরিদর্শক বাশার ও চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সাংবাদিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রবিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার সোনালী সেন, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কেএমপির পুলিশ কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, ইন্সপেক্টর আবুল বাশারের বিরেুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রকিব উদ্দিন পান্নু বাদি হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, সাংবাদিক পান্নুর উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দোষীদের ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি