অভয়নগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ মা ও শিশু হাসপাতালটি চালু করার দাবি এলাকারবাসী

134
উৎপল ঘোষ, (ক্রাইম রিপোর্টার, যশোর ) ঃ
যশোর জেলার অভয়নগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ মা ও শিশু হাসপাতালটি চালু করার জোর  দাবি তুলেছে ভৈরব নদের উত্তর – পূর্ব জনপদের চার ইউনিয়ন ও দক্ষিণ নড়াইলবাসী।
এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভৈরব নদের কারণে দক্ষিণ জনপদে ১ টি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়ন এবং ভৈরব নদের উত্তর – পূর্ব জনপদে ৪ টি ইউনিয়ন রয়েছে। যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে ভৈরব নদের দক্ষিণ জনপদের শিল্প বন্দর নগর শহর  নওয়াপাড়া সহ ৪টি ইউনিয়নে। সামান্যতম কাজ হয়েছে মাত্র এ দাবি  অসংখ্যা জনগণের। নদের কারণে ভৈরব উত্তর – পূর্ব জনপদের শ্রীধরপূর, বাঘুটিয়া, শুভরাঢ়া, সিদ্দিপাশা ও সীমান্ত দক্ষিণ নড়াইলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এক একর জমির উপর ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় একটি অত্যাধনিক ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ মা ও শিশু হাসপাতাল। একটি চিকিৎসক কোয়ার্টার, একটি নার্স কোয়ার্টার এবং ১০ টি বেড থাকতে পারবে এমন একটি অত্যাধনিক হাসপাতালের নির্মাণের  কাজ শুরু করেন খুলনার ছোট বয়রার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “আনিস এ্যন্ড কোম্পানি ” চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কাজ আরম্ভ করে ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারী কাজ শেষ করেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২০ মার্চ সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ভৈরব নদের উত্তর – পূর্ব জনপদের ৬ নং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ি গ্রামের শেখ নাদের হোসেন, শেখ মোনতাজ হোসেন, ও আঃ রাজ্জাক শেখ প্রায় কোটি টাকার মৃল্যের এক একর সম্পত্তি দান করেন। জমি দাতা মুন্তাজ শেখ বলেন, ভৈরব নদের চার ইউনিয়নে কোনো হাসপাতাল নেই।অত্র এলাকার জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য জমি দান করেছি। কিন্তু সেবার  আলোর মুখ এখনো পর্যন্ত দেখতে পেলাম না। এলাকাবাসী  আক্ষেপ করে আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে ভৈরব উত্তর -পূর্ব জনপদে অনেক সমস্যা আমাদের ছিলো। সেই সমস্যা এখন আর নেই।মানুষের এখন ভাত কাপড়ের অভাব নেই।এক কেজি চালের জন্য কারোর কাছে যেতে হয় না। যশোরের সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব (এমপি ) স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, বিলের পানি নিস্কাসনের জন্য খাল খনন, মাদ্রাসা,  রাস্তাঘাট,ব্রিজ, কালভার্ট, ভৈরব নদীর উপর সেতু যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিদ্যুৎ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার কেন্দ্র এবং অত্যাধনিক দ্বিতল ভবন হাসপাতালটি প্রায় ছয় বছর নির্মিত হলেও সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তেমন কোন ভূমিকা না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হচ্ছে দক্ষিণ নড়াইল সহ ভৈরব নদের উত্তর – পূর্ব জনপদের জনগণ।
৬ নং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের  পরিবার পরিকল্পনারত উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাইদুর রহমান বলেন, শংকরপাশা খেয়াঘাট টু আমতলা জেসি সড়ক এমন খানা খন্দে ভরা যা চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।রাস্তাটিও সংস্কারের প্রয়োজন।এ ছাড়া সিংগাড়ি ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ মা ও শিশু হাসপাতালটি বেশ কিছুদিন আগে নামে মাত্র চালু হয়েছে। সরকারিভাবে কোনো ডাক্তার এখনো নিয়োগ হয়নি। কিছুদিন আগে ৫ টি বেড এসেছে মাত্র। আমি সপ্তাহে দুই দিন ও শুভরাঢ়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনার উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ আফাজ উদ্দিন দুই দিন এবং বাকী দুই দিন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা যমুনা রানী ও রেহেনা পারভীন দায়িত্ব পালন করেন। সেবা ঔষধের প্রসঙ্গে বলেন, এখানে কোনো সরকারি ভাবে ঔষধের বরাদ্দ নেই। ঔষধ যা সরবরাহ করা হয় তা বাঘুটিয়া পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ঔষধ দিয়ে চালানো হচ্ছে বলে জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রিজভী বলেন, বতর্মানে সিংগাড়ি ১০ শয্যা বিশিষ্ঠ মা ও শিশু হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে রয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন বলেন, মন্ত্রণালয়ের মিটিং এ হাসপাতালটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা দিক নির্দেশনা দিলেই হস্তান্তর করা হবে। হাসপাতালে দ্রুত ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে চালু করার জন্য সচেতন   মহল ও এলাকাবাসী যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।