ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ব্যারিস্টার সুমনকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

131

বিচার বিভাগ ও আইনজীবীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন বিষয়ে পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্কও করে দিয়েছেন আদালত।

এক বিচারপতির ছেলেকে পরীক্ষা ছাড়াই হাইকোর্টের আইনজীবী ঘোষণা করার বিষয় চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট শুনানিতে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মৌখিকভাবে এই আদেশ দেন। তবে, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, ‌‘আমাকে সতর্ক করে আদালত কোনো আদেশ দেননি। শুনানিকালে আদালত বলেছেন, বিচার বিভাগ বা একজন সিনিয়র আইনজীবী নিয়ে এভাবে পোস্ট দেয়া ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে এটা করবেন না।’ রিট শুনানির একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, তাকে ও বিচারপতির ছেলেকে নিয়ে ফেসবুকে দেয়া ব্যারিস্টার সুমনের বক্তব্য ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এসময় ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমন ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করে সুপ্রিম কোর্ট ও আইনজীবীদের হেয় করছেন। একজন আইনজীবী অপর একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে এভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন না।’ তখন আদালত বলেন, ‘ফেসবুকে এসব দেবে কেন?’ এক পর্যায়ে বিচার বিভাগ ও আইনজীবীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করে-এমন বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে বিরত থাকতে বলেন ও সতর্ক করেন আদালত। পরে বিচারপতির ছেলেকে উচ্চ আদালত তথা হাইকোর্টের আইনজীবী ঘোষণা করে বার কাউন্সিল থেকে জারি করা গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন আদালত। একই সঙ্গে, আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাকে হাইকোর্টের আইনজীবী করে বার কাউন্সিলের প্রকাশিত গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।