ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি

105

 ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০শে জানুয়ারি দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩১শে ডিসেম্বর। দুই সিটিতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে। গতকাল নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এসময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।

কে এম নূরুল হুদা জানান, দুই সিটিতে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। ২রা জানুয়ারি হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই।

৯ই জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। এই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এখানে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ টি, ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৫১৬ টি। দক্ষিণ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ১২৪ টি, ভোটকক্ষ ৫৯৯৮ টি।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে ১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি ভোটকক্ষে ১ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইসির দুই যুগ্ম সচিবকে। উত্তরে দায়িত্ব পালন করবেন আবুল কাশেম ও দক্ষিণের দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল বাতেন। ঢাকা উত্তর সিটিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হবে বনানী কমিউনিটি সেন্টার ও দক্ষিণ সিটিতে মতিঝিল কমিউনিটি সেন্টার (বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার)।

বিভক্তির পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে একসঙ্গে ভোট হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হন। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। উপনির্বাচনের আগে আইন সংশোধন হওয়ায় সেই নির্বাচনটি হয় দলীয় প্রতীকে। আগামী বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রথমার্ধের মধ্যে এই দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা ছিল ইসির। এর মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভোটের তারিখ নির্ধারণে গতকাল সভায় বসে নির্বাচন কমিশন।

২০১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল সেই নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ই মে এবং দক্ষিণ সিটিতে ১৭ই মে। সে হিসাবে ঢাকা উত্তরে বর্তমানে দায়িত্বশীলদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ই মে, আর দক্ষিণে একই বছরের ১৬ই মে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিন গননা শুরু হয় উত্তরে ১৪ই নভেম্বর ও দক্ষিণে ১৮ই নভেম্বর ২০১৯ থেকে। তফসিল ঘোষণা করায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আগাম প্রচারণামূলক সব পোস্টার-বিলবোর্ড নিজ দায়িত্বে নামিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা নেবো। তারা যাতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেই নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করবো। ভোটারদের উদ্দেশে কেএম নূরুল হুদা বলেন, আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসেন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের দায়িত্ব আমরা নেবো। তাই আহ্বান করবো- ভোটাররা যেন ভোট দিতে আসেন।

সিইসি বলেন, বর্তমান মেয়ররা নির্বাচন করতে চাইলে তাদের পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আর কর্পোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নির্ধারণ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা আদালতে গেলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে কখন নির্বাচন হলো কি না হলো, সেটা নিয়ে আইনে কিছু বলা নেই। সিটির মেয়াদের কথা আইনে বলা আছে। তাই আইনি জটিলতা হবে না। নতুন ভোটার হবে ৩১ জানুয়ারির পর। তাই নতুন ভোটাররাও কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। এই নির্বাচন কি সব দলের জন্য, নাকি একটি দলকে জেতানোর জন্য- এমন প্রশ্নের জবাবে কেএম নূরুল হুদা বলেন, এটা কোনো কথা হলো। নির্বাচন কমিশন কোনোদিন একটি দলের জেতার জন্য কাজ করে? সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। এটা চিন্তা করার অবকাশ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনা থাকবে না। পুলিশ, বিজিবি থাকবে। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পরিচালনার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুই জন করে সেনা সদস্য থাকবে।