বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ করতে বললেন গয়েশ্বর

127

রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে যদি আমরা পার্লামেন্টে যোগ দিয়েও থাকি, তাহলে আজ আমাদের দায়িত্ব যারা আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্টে আছেন তাদের পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করা। এরপর জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামা উচিত। বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নারী শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘আর কতকাল বন্দি থাকবে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২৯ তারিখ রাতের অবৈধ ফসল হচ্ছে আজকের পার্লামেন্ট। আমরা যেটা চাই, সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে যে আসলেই আমরা সরকারের পতন চাই। তখন জনগণ রাস্তায় রক্ত দেওয়ার জন্য আপনার পাশে দাঁড়াবে। যতক্ষণ আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট করে বুঝাতে না পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও আন্দোলন দানা বেঁধে উঠবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, যদি তারা সেটা মনে করতো তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে গেছেন, কিন্তু তাকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দেয় নাই কেন অথবা সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনও প্রতিবাদ হয় নাই কেন? কেন তিনি অনুষ্ঠান বর্জন করে দেশে ফিরে আসলেন না? বুঝতে হবে যারা ’৭১-এ আমাদের সাহায্য করেছে, আমরা মনে করি তারা আমাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু ৪৭ বছর পরে তারা মনে করছে, তারা সেদিন বিনিয়োগ করেছে।  তিনি বলেন, আমাদের দেশে তারা বিনিয়োগ করেছে, তারা আমাদের কাছ থেকে নিতে চায়…তাদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া করা দরকার তাদের কাছে আমাদের ঋণের পরিমাণ কত? প্রয়োজনে আমরা ১৬ কোটি মানুষ রক্ত বিক্রি করে সে ঋণ শোধ করবো! তবু এই দেশকে কারও দাসত্বের অধীনে থাকতে দেবো না। গয়েশ্বর রায় অভিযোগ করে বলেন, আজ খালেদা জিয়ার জামিন হবে কি হবে না, তা আদালতের ওপর নির্ভর করে না। এস কে সিনহার যে নির্মম বিদায়, তাতে বর্তমানে যারা বিচারপতি আছেন তারা সাবধান! তাদের পরিণতি এরকম হোক, সেটা তো তারা চাইবেন না। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এস কে সিনহার পরে বিচার বিভাগের যে অবস্থা, তাতে বিচারপতিরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমাদের জেলখানায় যাওয়ার ভয় পেয়ে লাভ নাই। আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে সারাদেশ, আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের নির্যাতিত নারীরা, আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্যাতিত মানুষরা। তাই আমাদের এই সরকারের পতন ঘটিয়ে এ দেশকে মুক্ত করতে হবে।

 

সৌজন্যে : আরটিভি অনলাইন।