ফুলতলা উপজেলা পানি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

169
মোঃ আল আমিন খান , খুলনা ব্যুরো
রোববার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে ফুলতলা উপজেলা থেকে বুষ্টার পাইপের মাধ্যমে ওয়াসাকে পানি না দেয়ার জন্য এবং পানি নেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করতে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ফুলতলা উপজেলা পানি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, ২ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় ফুলতলা আসাদ রফি গ্রন্থাগারে গণ জমায়েত, ৩ ডিসেম্বর জামিরা বাজারে হাটসভা, ৬ ডিসেম্বর বিকালে পথের বাজারে পথসভা, ১২ ডিসেম্বর বেজেরডাঙ্গা শহীদ মিনারে পথসভা, ১৩ ডিসেম্বর মশিয়ালী গণ সংযোগ, ২০ ডিসেম্বর ফুলতলা স্বাধীনতা চত্ত্বরে সমাবেশ এবং সমাবেশ থেকে আরও কঠিন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
লিখিত বক্তৃতায় বলা হয়, ২০০৫ সালে খুলনার মেয়র তৈয়েবুর রহমান খুলনার নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহের নামে ফুলতলা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নামে এক আত্মঘাতি প্রকল্প গ্রহণ করেন। আফিলগেট থেকে বেজেরডাঙ্গা পর্যন্ত ৪০টি বুষ্টার পাইপ বসানো এবং আফিলগেটে এক বিশালাকৃতির পানির বার্জ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই মর্মে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বাজেটও গ্রহণ করা হয়। যা ছিল সম্পূর্ণ ১৯৮৩ সালের পানি উত্তোলনের আইনের পরিপন্থি। ফুলতলাবাসীর অগোচরে ২০০৫ সালের শুরুতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ফুলতলা বাসী ফুলতলা পানি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির ব্যানারে হাফিজুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করে। ফুলতলাবাসীর জীবন মরণ এ সমস্যা সমাধান করতে সেদিন সকলে আওয়াজ তোলেন ‘পানি দেব না, প্রয়োজনে রক্ত দেব। পানি নিতে জনমত উপেক্ষা করে বুষ্টার পাইপ বসানোসহ পানির পাইলাইন বসানোর কাজ চলতে থাকে। কোথাও কোথাও কেসিসি জনগনের বাধার সম্মুখিন হয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ফুলতলাবাসী রাজপথ অবরোধসহ হরতালের মত কর্মসূচী পালন করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে পরিবেশবাদী সংগঠন “বেলা” আইনী সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। হাইকোর্টের রিটের মাধ্যমে কাজের প্রতি স্থগিতাদেশ দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই আন্দোলন ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চলে। এক পর্যায়ে কেসিসি বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজেট করে মধুমতি নদী থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ফুলতলা বাসী হাফ ছেড়ে বাঁচে। সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ফুলতলা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য পুনরায় পায়তারা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে বুটার পাম্পগুলো ঘষামাজা করছে। পাইপলাইন খোড়াখুড়ি করছে বুষ্টারের পাম্প দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটাচ্ছে। পানির বার্জারের সঙ্গে বড় পাইপ সংযুক্ত করছে। আমরা ফুলতলা বাসী আশঙ্কা করছি পরিবেশ বিধ্বংসী আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। ফুলতলা পানি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের অর্থ পরিবেশ বিপর্যয়, ফুলতলা নলকুপ বন্ধ হওয়া, পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়া, নার্সারীর ক্ষতি, ক্ষেতের ফসল শুকিয়ে মারা যাওয়া, গাছপালা পানির শুকিয়ে মারা যাওয়া, খাবার পানিতে আর্সেনিক এর ঝুকি বৃদ্ধি, মাছের হ্যাচারী ধ্বংস হওয়া, জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হওয় ডাকাতিয়ার বিলের মাছের ক্ষতি সাধন হওয়া । ফলের হাজার হাজার পরিবার পথে বসবে। ফুলতলার পরিবেশ বিনষ্টকারী এই প্রকল্প বন্ধ করতে আমরা দৃঢ প্রতিজ্ঞ ফুলতলার পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখতে। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা পানি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আওয়ামীলীগ নেতা সরদার শাহাবুদ্দিন জিপ্পী, আসলাম হোসেনসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।