গোপালগঞ্জে নেতার বাড়িতে ত্রাণের টিন

128

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ফুকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শের আলী মোল্লার বসতঘরে ৩২টি সরকারি ত্রাণের ঢেউ টিন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ফুকরা গ্রামে হতদরিদ্রের জন্য আদর্শ গ্রামের ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া ৩২টি  ঢেউ টিন  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্মসাৎ করার জন্য তার বাড়িতে নিয়ে রাখেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে ফুকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শের আলী মোল্লার দক্ষিণ ফুকরার উত্তরপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মোসাম্মৎ হামিদা সুলতানাকে টিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাদের বাড়িতে সরকারি টিন রয়েছে বলে স্বীকার করেন। বাড়ির সামনের দক্ষিণ পোতার ওয়ালশেড টিনের ঘরে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে গিয়ে ত্রাণের টিন দেখিয়ে দেন। টিনের গায়ে লেখা রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ত্রাণ সামগ্রী, বিক্রয়ের জন্য নহে। ফুকরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিকদার কাইউম হোসেন বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ফোন পেয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শের আলী মোল্লার বাড়িতে আমি ছুটে যাই। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে টিনগুলো গণনা করে ৩২টি ঢেউটিন পাই। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানাই। টিনগুলো সরকারি ত্রাণের টিন বলে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন। তবে কিভাবে এ টিন ওই নেতার বাড়িতে এলো তা তিনি জানাতে পারেননি। ফুকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শের আলী মোল্লা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার শ্যালক মিরাজ খান জাহাজে চাকরি করেন। তার জায়গা আছে কিন্তু ঘর নেই। তাকে আমি তদবির করে দুই দফা রিলিফের টিন ও ১২ হাজার টাকা পাইয়ে দিয়েছি। তারা রিলিফের টিন এনে আমার ঘরে রেখেছে। এ টিন আদর্শ গ্রামের প্রকল্প থেকে বেঁচে যাওয়া টিন নয়। এলাকায় আমার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। আমার প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা টিন আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। কাশিয়ানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ওই আওয়ামী লীগ নেতার শ্যালককে ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দফা রিলিফের টিন ও নগদ ১২ হাজার টাকা আমাদের অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। প্রথম অর্থ বছরে মিরাজ খানের পক্ষে এক ব্যক্তি টিন ও টাকা উত্তোলন করেন। পরের অর্থবছরে মিরাজ খান স্বাক্ষর করে টিন ও টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান। ওই আওয়ামী লীগ নেতার ঘরে রক্ষিত টিন আমাদের বিতরণকৃত টিন কিনা তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

                                                                                    সৌজন্যে : আরটিভি অনলাইন।।