খুলনা ও চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের অনশন

604

বুধবার সকাল আটটা থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা।  সকাল আটটা থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখে নিজ নিজ মিলগেটে ওই প্রতীকী কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। একই দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল আটটা থেকে আমিন জুট মিলের ফটকের পাশে প্রতীকী অনশন শুরু করেন শতাধিক শ্রমিক। বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর খুলনায় নিজ নিজ মিলগেটে সভা করে ছয় দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শ্রমিকনেতারা। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৫ নভেম্বর শ্রমিকেরা ভুখা মিছিল করেন। আজ চলছে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আছে নয়টি। এর মধ্যে খুলনায় আছে সাতটি ও যশোরে দুটি। আজ বুধবার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, খালিশপুর, স্টার, আলীম, ইস্টার্ন, কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলের শ্রমিকেরা কর্মস্থলে না গিয়ে মিলগেটে সমবেত হন। সেখানে শ্রমিকেরা আলাদাভাবে মূল ফটকের সামনে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে মিলগেটে পৃথক সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন, প্লাটিনাম মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা সারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, খালিশপুর জুট মিলের সিবিএ সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম শেখসহ সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের প্রতীকী অনশন কর্মসূচির সমাবেশে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আরিফুর রহমান বলেন, ‘২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি কমিশন এখনো বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন বা বিজেএমসির কারখানায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। আবার আমরা যে ন্যূনতম মজুরি পাই, তা–ও ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত বকেয়া।’

আমিন জুট মিল শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের দপ্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন বুধবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর পাটকলে ধর্মঘট পালন করা হবে। কর্মসূচি চলবে আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত।
শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে অন্যান্য দাবিগুলো হলো মিলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপি) ব্যবস্থা বন্ধ করা, পিচরেট শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া, বকেয়া থাকা অবসর ও মৃত্যু বিমার টাকা পরিশোধ, নিজ নিজ মিলের পিএফ ফান্ডের টাকা আবার ওই ফান্ডে ফেরত আনা, মৃত্যুজনিত শ্রমিকদের বিমা দাবি ৩৬ মাসের হিসাবে পরিশোধ, বরখাস্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের পুনর্বহাল, কারখানার আধুনিকায়ন প্রভৃতি।
খুলনা ও চট্টগ্রামের অনশন কর্মসূচি থেকে শ্রমিকনেতারা অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সৌজন্যে : প্রথম আলো।।