নওয়াপাড়া শহর অগ্নি ঝুঁকিতে

165

উৎপল ঘোষ যশোর থেকে :

ঐতিহ্যবাহী অভয়নগর শিল্প ও বাণিজ্য বন্দর জনাকীর্ণ নওয়াপাড়া শহরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোতে জরুরী অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা নজরে পড়ে না। প্রায় দেড় ডজন ক্লিনিক ডাক্তারের চেম্বার একাধিক ফিজিওথেরাপী সেন্টার, ক্ষুদ্র কলকারখানা সহ রয়েছে অসংখ্যা আবাসিক বহুতল ভবন। উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান সমূহে আগুন ধরলে তাৎক্ষনিক নির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। যার ফলে মুহুর্তে ঘটতে পারে জান মালের অবর্নীয় ক্ষয়-ক্ষতি।
রাজধানী সহ দেশে বিভিন্ন শহর এবং আবাসিক ভবন ও বস্তিতে দফায় দফায় আগুন লেগেছে। ভয়াবহ আগুনের লেলিহান শিখা বহুতল ভবনের সবকিছু ভস্মে পরিনত হয়েছে। তেজদ্বীপ্ত দাবানলে কয়েকশত সম্ভবনা মানব প্রাণ পুড়ে ছাই বনে গেছে। তদন্ত কমিটিগুলো দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্থ ভবনগুলোতে ছিলনা পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মী বা ছিলনা প্রশিক্ষন। ভবনগুলোতে ৩ ফুট চওড়া সিঁড়ি ব্যতীত বিপদকালীন বের হবার সিঁড়ি নেই। যে কারণে অবর্ণনীয় জান মালের ক্ষতি হয়েছে। আহতদের পোড়া যন্ত্রণা আর্তনাত এখনো থামেনি। বইছে স্বজন হারাদের চোখে বন্যা।
জনাকীর্ণ শহর নওয়াপাড়া বিশেষ করে পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে বেঙ্গল মিল থেকে তালতলা ও হাসপাতাল রোডে ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ডাক্তারদের চেম্বার, ফার্মেসী, ক্ষুদ্র কলকারখানা, গুদাম সহ অনেক বাসা বাড়ী ও বহুতল ভবন রয়েছে। কিন্তু কোথাও নেই আগুন নিভানোর ব্যবস্থা। ঝালাই কারখানা অনেক হোটেল রেস্তরা, ফাস্ট ফুড এবং ভ্রাম্যমান চা কফি সপ, ভাজার দোকানে বেআইনী বিপদজনক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে দেদার। একদিকে যেমন নেই বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। তেমন খোলা স্থানে অসাবধানে অদক্ষজনেরা গ্যাস ব্যবহার করছে জান মালের অপূরনীয় ক্ষতির মুখে রেখে যার নজর দারীর কেউ নেই। আগুন লাগলে দাবানলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভস্মিভূতের ন্যায় শিল্প ও বাণিজ্য বন্দর নিমেশেই মৃতপুরিতে পরিণত হবে।
গ্যাস ব্যবহারে বিধি বিধান আছে বিক্রির জন্য লাইসেন্স থাকতে হবে। যেমন পাশাপাশি রাখতে হবে অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সবাইকে মেনে চলতে হবে বেধে দেওয়া বিধান। এ আইন অমান্যকারীদের ১৮৮৪ এর এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারায় ২ বিধি মতে আইন অমান্যকারীদের ২ বছর ও অনধিক পাঁচ বছরের জেল, ৫০ হাজার টাকা দন্ড অনাদায় ছয় মাসের কারান্ডের বিধান রয়েছে। বিধি বলা হয়েছে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এখানে রয়েছে মান্দাত্মার আমলের একটি ফায়ার স্টেশন। কর্মকর্তা সহ ২৭ জন লোকবল নিয়ে টিকে আছে একটি। যশোর ও খুলনার ফুলতলা স্টেশন ৩০ কিঃ মিঃ দূরত্বে রয়েছে। সারা দেশের ন্যয় এশহরে অধিবাসীরা সর্বদা থাকেন আগুন আতঙ্কে। মুদির দোকান ও ফার্মেসী এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য মজুদ ও আবাসিক বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা প্রত্যক্ষ করে চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবী মহল হতভম্ব হতবাক হয়েছেন। তারা বলেছেন, এ অব্যবস্থা অনিয়ম দেখবে কে ? এবং কারা ? এ দায় কার ?