ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সব শিশুকে কারামুক্তির নির্দেশ

137

মোবাইল কোর্টে সাজা পেয়ে গাজীপুরের টঙ্গী এবং যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধন উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা শিশুদের মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।  ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের তাৎক্ষণিক এবং ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের ছয় মাসের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুল হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে, এসব শিশুকে সাজা দেয়া সংক্রান্ত নথি এক সপ্তাহের মধ্যে তলব করেছেন আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পরিচালিত শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিষয়ে শিশু আইন এবং দণ্ডবিধির বিধি বহির্ভূত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও আদালত রুল জারি করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর আগে পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। আব্দুল হালিম বলেন, রাষ্ট্রীয় খরচে এই আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। আদেশ পাওয়ার পর শিশুদের ছেড়ে দিতে হবে।

পাশাপাশি আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাইকোর্ট তার আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়ার বিষয়টিকে অসাংবিধানিক, অবৈধ এবং বাতিল বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত শিশুদের মধ্যে যাদেরকে দণ্ড দিয়েছে, তাদেরকে দ্রুত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা হাজত থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যতীত অন্য যেকোনও আদালত (শিশু আদালত ব্যতীত) যেসব শিশুকে দণ্ড দিয়েছেন, সেই শিশুদের ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর জামিনপ্রাপ্ত এসব শিশুর জামিননামা সংশ্লিষ্ট জেলা শিশু আদালত বরাবর জমা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। সৌজন্যে : মানবজমিন অনলাইন।।