কারাগারে যখন মাদক ব্যবসা 

179
।।মোঃ আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো ।।
খুলনা জেলা কারাগারে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নেত্বত্বে অনেকটা ওপেন সিক্রেটভাবেই চলছে মাদক বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের ভিতর অবৈধ এ বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কয়েকজন কারারক্ষী ও কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা কারাগারের কয়েদি ও হাজতির একটা বড় অংশ মাদক সেবন, ব্যবসা ও পাচারের মামলার আসামি। তারা কারাগারের ভিতরে আসার পরও মাদক সেবন ও ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। বন্দীদের পাশাপাশি জমাদার ও কারারক্ষীদের একটি অংশ এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসাধু কিছু কারারক্ষী ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কয়েকজন দাগি কয়েদি মাদক ব্যবসার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া বন্দীদের পায়ুপথ, বিশেষ প্যাকেট করে পাকস্থলিতে করে, গোপনাঙ্গে বেঁধে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, শার্ট, প্যান্টসহ নানা কৌশলে শরীরের বিভিন্ন অংশে মাদক নিয়ে কারাগারে ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া কারা অভ্যন্তরে স্বজনদের দেওয়া খাবারের সঙ্গে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। কতিপয় কারারক্ষী মাদকদ্রব্য ভিতরে বহন করে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর (কয়েদি) হাতে পৌঁছে দিয়ে আসে। সম্প্রতি অভিন্ন কায়দায় এক কয়েদীর স্ত্রী গাঁজা নিয়ে তার স্বামীকে দেখতে আসে। এসময়ে তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছিল কারারক্ষীরা।
খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুধু খুলনার কারাগারে নয় সারাদেশের কারাগারের একই পরিস্থিতি। জেল সৃষ্টির পর থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। মাদক সেবীরা পৃথিবীর সব জায়গায় মাদক সেবনের চেষ্টা করে। কারাগারে কয়েদিদের আমরা নজরদারীতে রাখি। মাদকসহ ধরা পড়লে বিচারের আওতায় নেওয়া হয়।জেল গেটে তল্লাশীর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কারাগারে তল্লাশী ব্যতিত কেউ প্রবেশ করতে পারে না। অনেক সময় তল্লাশী করেও মাদক পাওয়া যায় না। পরে যদি ধরা পড়ে আমরা ব্যবস্থা নিই। কারাগারে মাদকের ব্যবহার নিয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের সঙ্গে যারই সম্পৃক্ততা থাকুক কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,  কারাগার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা কারাগারে মাদক প্রবেশের জন্য ব্যবহার করে হাজিরা দিতে আসা বন্দী ও কয়েদিদের। সিন্ডিকেটের লোকজন আদালত চত্বরে এসে বন্দীদের হাতে ছোট ছোট মাদকের পুঁটলি তুলে দেয়। ওই মাদকদ্রব্য বহন না করলে কারাগারে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতনের ভয়ে অনেকে মাদকদ্রব্য বহন করতে বাধ্য হন। পরে লুঙ্গি ও শার্টের সেলাইয়ের ভাঁজের ভিতরে, শুকনো মরিচ, পিয়াজ, টুথপেস্ট, আপেল ও সিগারেটের প্যাকেটে করে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় মাদকের চালান।
মাদকের সাথে কারারক্ষীদের কোন সংশ্লিষ্টতা থাকে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মাচারীদের যোগসাজশ না থাকলে কোন ভাবেই কারা অভ্যন্তরে মাদক দ্রব্য ঢুকতে পারতো না।
সৌজন্যে ও তথ্য সূত্র : দৈনিক প্রবর্তন।।