খুলনায় ৮ কিশোর গ্যাং নজরদারিতে 

209
মোঃ আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো   
খুলনা নগর ও জেলার একাধিক কিশোর অপরাধী গ্রুপকে নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ, মাদক সেবন ও ব্যবসা এবং যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এসব কিশোর অপরাধীরা। এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় কিশোর অপরাধীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। এমনকি গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ‘বন্ধু’ নামের একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে। আদালতে অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক কিশোর। অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে আটটি কিশোর গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। প্রতিটি গ্রুপেই ৮/১০ জন সদস্য রয়েছে। এসব গ্রুপের অবস্থান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাইপাস সড়কের পাশ্ববর্তী এলাকায়। ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে এসব গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নগরীর খালিশপুর পৌরসভা, পার্কের মোড়, হাউজিং বাজার ও আলমনগরে একটি, খানজাহান আলী (র.) সেতু ও পুরাতন রূপসা এলাকায় একটি, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড-খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নতুন রাস্তার মোড়ে একটি, জিরোপয়েন্ট থেকে আফিল গেট বাইপাস সড়কে একটি, বয়রা-পাবলিক কলেজ মোড়-মুজগুন্নি এলাকায় একটি, দিঘলিয়া উপজেলার তেতুলতলা মোড়ে একটি, বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরে একটি এবং ফুলতলায় উপজেলা সদরে একটি গ্রুপ রয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রুপে ৮/১০ জন বা এর বেশিও সদস্য রয়েছে। এরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে আফিল গেটে বাইপাস সড়কের গ্রুপটি ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম করে। বয়রা কলেজ মোড় ও মুজগুন্নি এলাকার গ্রুপটির সদস্যরা স্কুল, কলেজে না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন করে। দিঘলিয়ার গ্রুপটি স্কুল ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম করে থাকে। বটিয়াঘাটার গ্রুপটি ও যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মত কাজের সাথে সম্পৃক্ত। র‌্যাবের তথ্য মতে, রূপসা এলাকা, সোনাডাঙ্গা থেকে নতুন রাস্তা এবং ফুলতলা এলাকায় তিনটি গ্রুপ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২০ জানুয়ারি খুলনা পাবলিক কলেজে কনসার্ট চলাকালে সমবয়সী বন্ধুদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভির রাজিন নিহত হয়। রাজিন হত্যার পর গ্রেপ্তার হয় সাব্বির (১৬), রিফাত, মিতুল, ফাহিম, রয়েল, আপন (১৪), রিজভী (১৩), আলিফ (১৬) ও জিসান খান (১৩)। এদের মধ্যে রিফাত ও রিজভি ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ গ্রুপের সদস্য। আর সাব্বির ‘গোল্ডেন বয়েজ’ গ্রুপের। ফাহিম ইসলাম মনিও (১৩) ‘গোল্ডেন বয়েজ’ গ্রুপের সদস্য। হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে রয়েল ও মিতুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায়। এর মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ওই ঘটনার তদন্তে ১৫ থেকে ২০ জন কিশোর অপরাধীর নাম জানতে পারে পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কিশোরদের মধ্যে একটু সিনিয়রদের গ্রুপটি ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ নামে পরিচিত। মাদক বিক্রি ও সেবনসহ ছিঁচকে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিশোর গ্রুপ ‘টিপসি বয়েজ’ নামে পরিচিত। এ গ্রুপের সদস্যরা বেশির ভাগই বস্তি এলাকার। আর স্কুল পড়ুয়াদের আরেকটা গ্রুপের নাম ‘গোল্ডেন বয়েজ’। ডেঞ্জার বয়েজ ও গোল্ডেন বয়েজ গ্রুপটি পরিচালিত হয় মহানগরীর বৈকালী বাজার এলাকা থেকে। আর টিপসি গ্রুপটি পরিচালিত হয় মহানগরীর বয়রা পালপাড়া এলাকা থেকে। ছোট ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে কিশোরদের এই গ্রুপগুলো এখন খুন ও ধর্ষণের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।