যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ মিলে উৎপাদিত ৩৪কোটি টাকার পণ্য অবিক্রিত: উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে গেছে

119

এমএম আলাউদ্দিন, অভয়নগর (যশোর) থেকে-
যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট শিল্পাঞ্চল এলাকায় ভৈরব নদের কূল ঘেষে এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (জেজেআই)। মিলসূত্রে জানাগেছে, ৮১.২১ একর জমির ওপর অবস্থিত এই পাটকলটি ১৯৭২সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিজেএমসির (বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন) নিয়ন্ত্রিত এই মিলটিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। সত্তর দশকের যন্ত্রপাতি দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মিলটি। সরেজমিনে মিলে গিয়ে কথা হয় মিল কর্তৃপক্ষের সাথে। মিলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. কালাম মল্লিক জানান- মিলে উৎপাদিত হচ্ছে তিন ধরণের পণ্য। যেগুলো হলো- পাতলা বস্তা (হেসিয়ান), মোটা বস্তা (স্যাকিং) ও কার্পেট ব্যাকিং ক্লথ (চট)। উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া ও ইরাক, আফ্রিকার সুদান ও ঘানা এবং পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতে এসব পণ্য রফতানি করা হয়ে থাকে বেশি। বর্তমানে মিলে তিন শিফটের স্থলে চালু রয়েছে দুইটি শিফট। স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে ১হাজার ১শত জন। অস্থায়ী বা বদলী শ্রমিক রয়েছে ১হাজার ২শত জন। মিলটিতে বর্তমানে ৪৬জন কর্মকর্তা ও ৯১জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এছাড়া মিলে রয়েছে জেজেআই নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে ১৬জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে ১৪২জন ছাত্র ও ১২৬জন ছাত্রী। মিলে তাঁতের সংখ্যা হচ্ছে- হেসিয়ান উৎপাদনে ৩০৬ খানা, স্যাকিং উৎপাদনে ১০৪খানা এবং সিবিসি উৎপাদনে ৫৬খানা। সত্তর দশকের যন্ত্রাংশ দিয়ে চলছে এসব তাঁতগুলো। তিনি আরও জানান- সময়মতো কাঁচা পাট ক্রয় করতে না পারা এবং উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য দামে সঠিক সময়ে বিক্রি না হওয়ায় মিলটির এমন দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিলের ডেপুটি ম্যানেজার (হিসাব) মো. রবিউল ইসলাম জানান- মিলের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হলো – দৈনিক ২২মে.টন। উৎপাদন হচ্ছে- দৈনিক ১৪মে.টন। প্রতিদিন ঘাটতি পড়ছে- ৮মে.টন। বছর হিসাবে ঘাটতি পড়ছে- ২হাজার ৪০০মে.টন। তিনি আরও জানান- বর্তমানে মিলে উৎপাদিত ৩৪কোটি টাকা মূল্যের উৎপাদিত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যার ফলে শ্রমিকদরে সঠিক সময়ে বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিলের শ্রমিক সংগঠন সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু জানান- পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন) দুই বছর ধরে পাট কেনার জন্য অর্থ সরবরাহ না করায় মিলের উৎপাদন ক্রমশ: হ্রাস পাচ্ছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে পাট কেনার অর্থ দাবি করেন। মিলের প্রকল্প প্রধান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন- মিলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাট না থাকার কারণে উৎপাদন হচ্ছে কম। সঠিক সময়ে পাট কিনতে পারলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতো।