খুলনার আট উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

254

খুলনা ব্যুরো
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে খুলনার ৮ উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত দু’-একটি কেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোতেই ভোটারদের উপস্থিতি তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। দুপুর পর্যন্ত ভোটারের সংখ্যা কম থাকায় কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনেকটা অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। তবে, দুপুর ২টা পর্যন্ত রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয় উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে তেরখাদা উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলিতেই বেশি ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বেলা সোয়া ১১টায় দিঘলিয়া উপজেলা সদরের এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ফরিদ হোসেন প্রিজাইডিং অফিসারের সামনেই আওয়ামী লীগের ১০-১২জন কর্মী নিয়ে একটি বুথের সামনে চেয়ারে বসে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের বলছেন। ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস প্রতীক) শেখ মারুফুল ইসলামের প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শেখ মঞ্জুর হোসেন আসলে ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ফরিদ হোসেন প্রিজাইডিং অফিসারের সামনেই কেন্দ্রে আসার জন্য তাকে হুমকি প্রদান করেন। ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শেখ মঞ্জুর হোসেন অভিযোগ করেন এই কেন্দ্রের ১, ৪, ৫, ৬, ৯ ও ১০ নম্বর বুথে তাদের কোনো এজেন্ট দিতে দেয়া হয়নি। এ সময় ওই চেয়ারম্যান তার প্রতি মারমুখি হয়ে ওঠেন। খবর পেয়ে র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ হোসেনকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।
প্রিজাইডিং অফিসার হাফিজুর রহমান খান বলেন, তার কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ভোট দিয়ে বুথের সামনে বসলে তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
বেলা ১২টায় বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ভোটার আছেন মাত্র কয়েকজন। বারাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. শামসুদ্দীন জানান, এই কেন্দ্রের ৪ নম্বর বুথে বেলা ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ৩৩২ ভোটের মধ্যে মাত্র ৩৯টি ভোট পড়েছে।
প্রিজাইডিং অফিসার মো.ইমাদুল ইসলাম জানান, ওই সময় পর্যন্ত এই কেন্দ্রের ৩ হাজার ১১১ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫৯৮টি। যা মোট ভোটারের ১৯ দশমিক ২২শতাংশ। তিনি বলেন, ভোটাররা দুপুরের পর ‘কাজ শেষে খেয়ে-দেয়ে ভোট দিতে আসবেন। আশা করছি, এই কেন্দ্রে শতকরা ৫০শতাংশ ভোট কাস্ট হবে’।
এদিকে, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা ও ফুলতলা উপজেলাতেও ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার খুলনা জেলার নয় উপজেলার ৮টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মধ্যে বটিয়াঘাটা ও ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ও দাকোপ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাকি ডুমুরিয়া উপজেলায় নৌকা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে দু’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর দ্বন্দ্বে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ফলে রোববার ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।