অভয়নগরের তরিক মেম্বরের নেতৃত্বে বাল্যবিয়ে

1112

অভয়নগর থানা  প্রতিনিধি :  বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৬নং আইন বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাল্যবিয়ে যেখানে, সেখানেই প্রতিরোধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। বিশেষকরে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি এই বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। প্রসঙ্গত, একজন জনপ্রতিনিধি নিজেই বাল্যবিয়ের আসর বসিয়ে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাযায়, যশোর অভয়নগর ৮নং সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বর শেখ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গত ১৩মার্চ রাত ৯টায় সিদ্দিপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় শ্রী প্রদীপ বিশ্বাসের স্কুল পড়–য়া কণ্যা বিপাশা (১৫) এর সাথে লিটন বিশ্বাস, পিতা-নির্মল বিশ্বাস, গ্রাম-মিরেখালি, থানা-রামপাল, জেলা-বাগেরহাটের সাথে হিন্দুশাস্ত্রনুযায়ি বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ বাল্য বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাঁধা সৃষ্টি করে। ওই ইউপি সদস্য সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ সহ লাঞ্চিত করে। এছাড়া সে বীরদর্পে বলেন, যশোর-৪ আসনের এমপি রণজিত কুমার রায়কে জানিয়ে এ বিয়ে হচ্ছে। উল্লেখ্য, সিদ্দিপাশা পিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস মল্লিক মুঠো ফোনে জানান, স্কুলের দেওয়াতথ্য অনুযায়ি ১০/১২/২০০৩ সালে জন্মতারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বিপাশা বিশ্বাসের। হিসাব অনুযায়ি বিপাশার বর্তমান বয়স ১৫ বছরে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের ঘোষিত আইনকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে তরিকুল ও তার সহযোগিরা অকালে ঠেলে দিল ছোট শিশু কণ্যা বিপাশার আগামীর ভবিষৎ। বর্তমান সরকারের বিশেষ ভূমিকায় সমাজে গনসচেতনতা সৃষ্টিকরে বাল্য বিয়ে, যৌতুক প্রথা নির্মূলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থাকে ইউপি সদস্য নিজেই যখন বাল্যবিয়েরমত অপরাধে সামিলহলো, সেক্ষেত্রে সমাজের মানুষ এ ধরনের জনপ্রতিনিধির কাছথেকে কি আশা করতে পারে তা প্রশ্নবৃদ্ধ।

দৈনিক প্রবাহের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামন বাবুল জানান, বাল্যবিয়ের বিষয় আমরা কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তরিকুল মেম্বর, বাপ্পি কাজী সহ কয়েকজন ফিল্ম স্টাইলে মোটরাসাইকেলে এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। তারা অকথ্যভাষায় গালিগালাজ সহ হুমকি দেয়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এক ব্যক্তি বলেন, “তরিকুল মেম্বর বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করে এলাকায় দলীয় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে পূর্বের ন্যায় বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। এসব অনুপ্রবেশকারী নব্যআওয়ামীলীগ নেতাদের জন্য দলের বদনাম হচ্ছে”। তিনি আরো মন্তব্য করে বলেন,“ বাল্যবিয়ের ঘটনায় তরিকুলকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার করা দরকার”।

বাল্যবিয়ের বিষয় কথা হয়, ৮নং সিদ্দিপাশা ইউনিয়েনর চেয়ারম্যান খাঁন এ কামাল হাচানের সাথে। তিনি জানান, তরিকুল মেম্বর বাল্য বিয়ের বিষয় যদি আমার কোন সংশ্লিষ্টতার কথা বলে থাকে, এটা সত্য নয়। যদি তরিকুল মেম্বর বাল্য বিয়ের সাথে কোনভাবে জড়িত থাকে তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে যশোর ৪আসনের এমপি রনজতি কুমার রায়ের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, “ তরিকুল মেম্বররে সাথে কথা বলতে আমি ঘৃণাবোধ করি, ওর কোন স্টেশন নেই, ও করত বিএনপি, কিভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছে তা জানিনা, বাল্যবিয়ে গতকাল কিভাবে হয়ছে কি না, তা ও আমি জানিনা। এমপি রনজিত আরো বলেন, তরিকুল যদি আমার রেফারেন্স দিয়ে থাকে, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছে, কারণ বাল্যবিবাহ, সন্ত্রসাী তৎপরতা, মাদকে জিরো টলারেন্স এ সব বিষয় আমি খুব শক্ত। আমি বাঘারপাড়া ও অভয়নগর এলাকায় বাল্যবিয়ের বিষয় ইউএনওকে বলে অনেককে জেল হাজত খাটিয়েছি। আমি বার বার আমার কর্মীদের বলেছি ,“ প্রধানমন্ত্রী যেটা চাননা সে বিষয় কিছু করা যাবেনা।”